আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর): কেশবপুরে ঘর জামাই থাকতে রাজি না হওয়ায় জামাইকে মারপিট করে আহত করেছে শ্বশুর বলে অভিযোগ উঠেছে।আহত ঐ যুবক শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে গত ১০ মে সকালে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্স এ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চাঁদড়া গ্রামের মৃত কামাল আলী ডালির ছেলে রবিউল ইসলাম(২৩) এর সাথে একই উপজেলার সাগরদাঁড়ি শেখ পাড়া গ্রামের আরশাদ আলীর মেয়ে আয়েশা খাতুন(১৯)এর সঙ্গে ১ বছর পূর্বে বিবাহ হয়।

 

 

 

 

তাদের বিবাহের পর তার শ্বশুর তালা উপজেলার মানিকহার গ্রামের শাশুড়িকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করেন।রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,ঈদের পরে দিন সকাল ১১ টার দিকে তার স্ত্রী আয়েশা খাতুনকে নিয়ে মানিকহার গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরপরে দিন ৪ মে বুধবার সকালে তার শ্বশুর বাড়িতে লিচ নেওয়া ১ বিঘা জমির রোপন করা ইরি বোরো ধান কেটে বাড়িতে আনার কথা বললে তার শ্বশুর আরশাদ আলী ঐদিন রাত ১০টার দিকে জামাই রবিউলকে ঘর জামাই হিসেবে থাকতে বলেন শ্বশুর।

 

 

 

 

তার শ্বশুরের কথায় রবিউল ইষলাম ঘর জামাই থাকতে রাজি না হওয়ায় জামাইকে শ্বশুর চড় মারলে সে মাটিতে পড়ে যায়। এসময় শ্বশুর আরশাদ আলী মেহগনির কাঠের লাঠি দিয়ে জামাইকে মারপিট করে আহত করে। আহত জামাইকে ৫দিন ধরে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন চালায় শ্বশুর।এরপর ৮ মে রাতে শ্বশুর বাড়ির পাশে কবিরাজ সৈয়দ আলীর বাড়িতে তাকে নিয়ে যায়।সেখানে তাকে জোরপূর্বক ঔষধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তার শ্বশুর আরশাদ আলী,শাশুড়ি জেহরা বেগম,ও কবিরাজের ছেলে ইদ্রসি আলী মিলে রবিউলকে মারধর করে জোরপূর্বক সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য আবারও তাকে মারধর করা হয়।

 

 

 

 

রবিউল ইসলাম শ্বশুর ও শাশুড়ীর হাতকে বাঁচার জন্য গত ৯ মে সকালে চুরি করে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে ১০ মে সকালে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্স ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। রবিউল ইসলাকে মারপিটের ঘটনায় তার শ্বশুর ও শাশুড়ীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে আরশাদ আলী সাংবাদিকদের জানান, আমার জামাইকে মারপিট করেনি। আমাকে ফাঁসাতে সে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

SHARE