• রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:০৫

বাজার সিন্ডিকেটে বিএনপি জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হবে: ওবায়দুল কাদের

প্রতিনিধি: / ১০৬ দেখেছেন:
পাবলিশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪

বাজার সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিএনপি জড়িত কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার হটাতে যখন ব্যর্থ, আন্দোলনেও পারেনি, নির্বাচনেও তারা গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির বাইরে গিয়ে বিরোধিতা করেছে। সবকিছুতেই তাদের ব্যর্থতা। তাদের সমস্ত প্রয়াস যখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত তখন তারা অন্যান্য অনেক কিছুতে জড়িয়ে সরকারকে বিব্রত করা, বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কর্মকাÐকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তারা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট কারা করে? এই সরকার জনগণের প্রতিনিধি। শেখ হাসিনা সরকারের সব কর্মকাÐই জনগণের স্বার্থকে সমন্বিত রেখে। এখন রমজান মাসে সরকারকে বিব্রত করার জন্য সিন্ডিকেট থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের এখন খতিয়ে দেখতে হবে, এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা আছে কি না। তারাই এসব সিন্ডিকেট করে সরকারকে বিব্রত করা এবং নির্বাচিত সরকারের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তারা চেষ্টা করতে পারে। এটা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। এই সিন্ডিকেটের সাথে বিরোধীদল বিএনপির সংযোগ আছে কি না। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ সরকারের দায়িত্ব, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে তারা (বিএনপি) আসেনি, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন যখন হয়ে যাচ্ছে তখন তারা বলেছিল, নির্বাচনের পর বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে। কোথায় দুর্ভিক্ষ, আমাদের ক্রয় ক্ষমতা আছে। এখনই দেখেন আলোকসজ্জা শুরু হয়ে গেছে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। ঈদ শপিং শুরু হয়ে গেছে, হাতে তো পয়সা আছে। একটা লোক না খেয়ে মারা গেছে? কারা কোথায় কোথায় সমস্যা সৃষ্টি করছে, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। এদের সঙ্গে রাজনৈতিক যে সম্পর্ক, বিএনপি বিরোধী দল তারাও উস্কানি দিচ্ছে কি না, যোগসূত্র আসছে কি না, এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, চলমান বৈশ্বিক যে পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট, সারা বিশ্বে আজকে যে অস্থিরতা চলছে, তার প্রভাব প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও পড়বে। কথা হচ্ছে সরকার বিষয়টিকে কীভাবে মোকাবিলা করছে। শেখ হাসিনা ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও তিনি বিভিন্নভাবে প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন। কোন দেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এসেছে এমন প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, সিঙ্গাপুরে রুটিন হেলথ চেকআপে গিয়েও দেখেছি সেখানে জিনিসপত্রের দাম ৩ মাস আগে যা ছিল, তা থেকে দ্বিগুণ, তিনগুণ বেড়েছে। আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা হচ্ছে। এখানে সরকার নিষ্ক্রিয় নেই। প্রধানমন্ত্রী সারাক্ষণ সংকট মোকাবিলায় সময় দিচ্ছেন। আমাদের এখানে কোনো অবহেলা নেই। সরকার সব পদক্ষেপ যথাযথভাবে চেষ্টা করছে। গ্যাস, জ্বালানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মুখোমুখি সারা দুনিয়াই। আমেরিকা, ইউরোপ, উন্নত-অনুন্নত বিশ্বেও এই সংকট চলছে। এদিকে সোমালিয়ায় বাংলাদেশি জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিম্মিদের উদ্ধারে সরকার খুবই সক্রিয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুবই তৎপর, যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। যারা জিম্মি আছে আমাদের ২৬ জন, ২৬ জনের ইন্সুরেন্সও আছে। তাদেরকে নিরাপদে রাখা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সার্বিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ভিক্ষ পীড়িত সোমালিয়ায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে খুবই নাজুক। সেখানে কিছুদিন আগে এক সমীক্ষা দেখা যায় প্রতি মিনিটে দুর্ভিক্ষে একজন করে মানুষ মারা যায়। সেই দেশ সন্ত্রাস কবলিত, দুর্ভিক্ষ থেকেও অনেকেই অনেকেই তারা, জলদস্যুরা এ বিপথগামী হয়। এখানে মুক্তিপণ আদায় মূল লক্ষ্য। এখন সোমালিয়ার মোগাদিসুর দিকে জাহাজ যাচ্ছে। উপক‚লে গিয়ে মঙ্গল করে হয়তো তারা কোনো মুক্তিপণ দাবি করতে পারে এমন শোনা যাচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের কোন ঘাটতি নেই। এ সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূস একজন ব্যক্তি। জানতে চাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কে? তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশের আইন আদালত আছে। যা সবার জন্য সমান। এখানে শ্রমিকেরা পাওনা না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আইন আদালত সব দেশের নিজস্ব ব্যাপার। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, দাবিতো করতেই পারে। দাবির যৌক্তিকতা কতটুকু সেটাও তো আমাদের ভেবে দেখতে হবে। সরকার এখানে উদাসীন নয়। এ বিএনপি এখন বেগম জিয়াকে নিয়ে বড় বড় কথা বলে, সরকারের সমালোচনা করে। কিন্তু বছরের পর বছর তত্ত¡াবধায়ক সরকারের মামলা নিয়ে আদালতে তারা আইনি লড়াই করেনি। শুধু বিচারকে প্রলম্বিত করেছে। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যেতে হবে। আজকে এটা স্বীকার করতেই হবে, শেখ হাসিনার উদারতায় খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারছেন। এরপর ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি , সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম, যুব মহিলা লীগের সভাপতি ডেইজি সারোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com