বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি কেউ চাইলে, মাফ করে দিতে পারেন। আল্লাহ্ আপনাকে মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু সেই কালো হাত যদি সামনে বাড়ানোর চেষ্টা করেন, আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকতে পারবো না ভাই।
তিনি বলেন, পায়ে পাড়া দিয়ে, মুখের উপর, ফুটের উপর ঘুসি মারবেন, আর বলবো যে এবার কানটাও ছিঁড়ে মারেন, এই কাজ হবে না। বরং সমান ওজনের হিসাব-নিকাশ আপনাদের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আমরা কারো পায়ে পাড়া দিয়ে, ঝগড়া বাড়াতে চাই না। কিন্তু কেউ ঝগড়ার পাঁকাতে আসলে, ছেড়েও দেওয়া হবে না।
আজ মঙ্গলবার বিকালে খুলনা সাকির্ট হাউস ময়দানে খুলনা জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। এর আগে তিনি যশোর ও সাতক্ষীরায় জনসভায় যোগদেন। খুলনার পর তিনি বাগেরহাটে নির্বাচনী জনসভায় যোগদেন।
ডাঃ শফিকুর রহমান আরো বলেন, খুলনাকে একসময় বলা হতো শিল্পের রাজধানী। এখানে শিল্প ৫৪ বছরেও বিকাশিত না হয়ে মুখ থুবড়ে পরে আছে। সবগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে আছে। দুনিয়ার দেশগুলো শিল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা শিল্পকে একটা একটা করে খুন করছি।
তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চার দলের জোটের সরকার ছিলো। আমাদের সেই সময়ের মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী পৌনে দুই বছরের মাথায় শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি দায়িত্ব হাতে নিয়ে বলেছিলেন, আল্লাহ আমাকে তৌফিক দিলে, আমার মেয়াদকালে নতুন করে আরেকটি শিল্প কারখানার তালা খুলতে আমি দেবো না। তিনি বলেছিলেন, আমি আমার যেটুকু যোগ্যতা আছে, সবটুকু উজাড় করে বন্ধ তালাবদ্ধ কারখানাগুলো আমি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করবো। এবং বাংলাদেশে তিনি তাই শুরু করেছিলেন।
তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ ১১ দল সম্পন্ন করতে চায়। এই শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। জনগণের ভালোবাসায় যদি এদেশের সেবা করার সুযোগ পাই, আমরা কথা দিচ্ছি বন্ধগুলো খুলবো, নতুন করে ইন্ডাষ্ট্রি স্থাপন করা হবে এবং আমাদের সন্তানদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে।
বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বেকরাদের ভাতা না দিয়ে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করা হবে। এখানে মামা-খালুর কোনো হিসাব-নিকাশ নেব না। ওই টেলিফোনের তদবির আমাদের কাছে অচল। আমরা এটাও দেখব না একজন উপযুক্ত নাগরিক তিনি কোন ধর্মের বিশ্বাসী। আমরা দেখব এ কাজের জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যক্তি কিনা। তিনি যদি উপযুক্ত ব্যক্তি হন, তাকে তার যথা স্থানে সম্মানের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হবে।
ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, সাড়ে পনেরো বছর শুধু আমরা নির্যাতিতই হইনি, আরও অনেকেই নির্যাতিত হয়েছেন। তবে এইটা সঠিক, আমরা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছি, সেইভাবে অন্য কেউ নির্যাতিত হননি। কারো অফিসগুলা বন্ধ ছিল না পুরা সময় জুড়ে। কারো নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়নি। কারো দলীয় প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়নি। তাদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত কারো সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। এই সবগুলা ছিল জামায়াতে ইসলামীর উপর চরম জুলুম।
তিনি বলেন, আমরা এবং আমরা দেশবাসীর জান মাল ইজ্জত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করব। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা বলেছিলাম, “আমাদের ঘর ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, চাকরি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই বলে কারো সম্পদের উপর আমরা হাত দিবো না, আমরা কোন চাঁদাবাজি করব না।” আমরা আমাদের কথা রেখেছি।
তিনি বলেন, খুলনাঞ্চল জলবদ্ধতা, লবণাক্ত পানির কবলে পরে আজকে কৃষকদের একেবারেই বিধ্বস্ত অবস্থা। আল্লাহ যদি আমাদেরকে এই দেশের খেদমতের দায়িত্ব দেন, আমরা কথা দিচ্ছি। আপনাদের সাথে বসে, আপনাদের সাথে ডায়ালগ করে, কোন কাজটা আগে করলে এই এলাকার উন্নয়ন হবে, দেশের উন্নয়ন হবে, আমরা তা ঠিক করব। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আপনাদের সম্পদ আপনাদের হাতে তুলে দেব।
ডাঃ শফিকুর বলেন, আশ্চর্যের বিষয়, আমাদের একটি বন্ধু সংগঠন, তারা ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, এটা মায়ের হাতে দেবে। তারা একদিকে দিচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড, আরেকদিকে দিচ্ছেন আবার মায়ের গালে হাত। এই দুইটা একসাথে চলে না। আমরা অনুরোধ করব, নিজের মাকে সম্মান করুন। যদি আপনি নিজের মাকে সম্মান করতে পারেন, তাহলে গোটা মায়ের জাতিকে আপনি সম্মান করতে পারবেন। আর যদি নিজের মাকে সম্মান না করতে পারেন, আপনি বাংলাদেশের একজন নারীকেও সম্মান করতে পারবেন না। আজকে বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়েছে, মাথা গরম হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখন মাথা গরম হলে চৈত্র মাসে কি করবেন? এখন তো আরামদায়ক বাতাস আছে, আবহাওয়া আছে, এই সময় মাথা গরম করিয়েন না। জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে জনগণের রায়কে যারা সম্মান করে নাই, তাদের পরিণতি কি হয়েছে, তা থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমরা জীবন দেব, আমার মায়ের ইজ্জত দেব না। মায়ের ইজ্জতের জন্য লড়ে যাব। সুতরাং, কেউ আর মেহেরবানি করে এরকম করবেন না। যারা করেছেন, তওবা করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে মাফ চেয়ে নেন।
তিনি বলেন, আমরা ১৩ তারিখ থেকে আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে একটা নতুন বাংলাদেশ চাই। একটা অভিশাপ মুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমার মায়ের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। শিশুদের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। আমার বৃদ্ধা মহিলার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। সকল ধর্ম, বর্ণ এর মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।
" বিবিসি সাতক্ষীরা "
সম্পাদক ও প্রকাশক : আব্দুল মতিন।
মেইল- bbcsatkhira@gmail.com ঠিকানা- পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
""বি:দ্র: এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা আইনত দন্ডণীয়""
zahidit.com