ব্রি ধানের ফসলের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও দমন করতে ষোলটি ব্লকে স্থাপন করা হয়েছে আলোক ফাঁদ (আলোর ফাঁদ)।
গত রবিবার সন্ধ্যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। সন্ধ্যায় টিপনা আব্দুর রাজ্জাক গাজীর জমিতে আলোর ফাঁদ স্থাপন পরিদর্শন করেন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরুন নাহার বলেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী টিপনা ব্লাকের ক্ষতিকর পোকামাকড় শনাক্তকরণের জন্য আলোক ফাঁদ স্থাপন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার (এস এ পি পি ও) মোঃ আলী হাসান।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষক মোঃ নূরুল ইসলাম বিশ্বাষ,আব্দুর রাজ্জাক গাজী, বেগী বেগম মোঃ রবিউল ইসলাম গাজী,নাসির উদ্দিন গাজী ও মোজ্জাম্মেল গাজী,প্রমুখ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আলোর ফাঁদ স্থাপন করতে হয় সন্ধ্যার শুরুতেই। জমি থেকে ১০০ মিটার দূরে অন্ধকারে বাতি জ্বালিয়ে, বাতির নিচে সাবান-পানি মিশ্রিত গামলা স্থাপন করতে হয়। আলোর উপস্থিতি পেয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা এসে গামলার মধ্যে পড়ে এবং আটকে যায়। উপস্থিত পোকা দেখে শনাক্ত করে ধানক্ষেতে পরবর্তী দমন পদ্ধতি ঠিক করা হয়। আলোর ফাঁদের মাধ্যমে মূলত পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। আলোর ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে পোকা দমন কীভাবে করা সম্ভব তা কৃষকদের সচেতন করার জন্য নিয়মিত আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন আলোক ফাঁদ হলো একটি যান্ত্রিক পদ্ধতি, যেখানে আলোর সাহায্যে ক্ষতিকর পোকামাকড় আকৃষ্ট করে ফসল থেকে দূরে নিয়ে শনাক্ত করা হয়।এর মাধ্যমে উপকারী ও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতির হার নির্ণয় করা হয়।
পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্তকরণ: আলোক ফাঁদে ধরা পড়া পোকামাকড় দেখে কৃষকবন্ধুরা সহজেই বুঝতে পারেন যে তাঁর জমিতে কোন কোন ধরনের ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হতে চলেছে। এটি একটি প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করে।
পরিবেশ ও উপকারী পোকার সুরক্ষা: এই পদ্ধতিতে রাসায়নিক কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না বা কম প্রয়োজন হয়। এটি পরিবেশ দূষণ রোধ করে এবং ফসলে থাকা উপকারী বা বন্ধু পোকাগুলো (যেমন: মাকড়সা, লেডি বার্ড বিটল)কে রক্ষা করে, কারণ এগুলো আলোর প্রতি কম আকৃষ্ট হয়।
পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ও দমন: আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয় এমন অনেক ক্ষতিকর পোকামাকড় (যেমন: ধানের মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, থ্রিপস, সাদামাছি ইত্যাদি) আলোক ফাঁদের আলোর দিকে উড়ে আসে এবং একটি পাত্রে রাখা সাবান মিশ্রিত পানিতে পড়ে মারা যায়। এটি সরাসরিভাবে পোকার সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে।
খরচ সাশ্রয় ও সহজলভ্যতা: আলোক ফাঁদ তৈরি করা খুবই সহজ এবং সস্তা। স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন উপকরণ (যেমন: বাঁশ, একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব বা এলইডি বাতি, একটি প্লাস্টিক/টিনের পাত্র, পানি ও সাবান) দিয়ে তৈরি করা হয়।
" বিবিসি সাতক্ষীরা "
সম্পাদক ও প্রকাশক : আব্দুল মতিন।
মেইল- bbcsatkhira@gmail.com ঠিকানা- পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
""বি:দ্র: এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা আইনত দন্ডণীয়""
zahidit.com