সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বুধহাটা বাজার আবারও বেতনা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে বাজারসংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ধসে পড়ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নদী খনন ও অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। নদীর বাহাদুরপুর অংশে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে থাকলেও সেখানে খনন কার্যক্রম না চালিয়ে ভাঙনকবলিত বুধহাটা বাজার সংলগ্ন পাড়েই খনন করা হয়েছে। ফলে নদীর স্রোতের গতিপথ সরাসরি বাজারমুখী হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনেই প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় নৌযান চলাচলও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি একটি খেয়া নৌকা ঘাটে ভিড়তে গেলে হঠাৎ বড় অংশের পাড় ধসে পড়ে। এতে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় শিশুসহ সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, শুধু বালুর বস্তা ফেলে এই বাজার রক্ষা করা সম্ভব নয়। তারা দ্রুত নদীর অপর পাড়ে জমে থাকা পলি অপসারণ করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং স্রোতের দিক পরিবর্তনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বুধহাটা বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহমান তাসকিয়া বলেন, “নদী খননের ফলে তোলা মাটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেখানে যদি আমাদের কোনো বেড়িবাঁধ থাকে, তাহলে বিষয়টি আমরা দেখব।”
তবে বুধহাটা বাজার ভাঙনের মুখে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “খাসজমি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।”
নির্বাহী পরিচালকের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, পাউবো’র মূল বাঁধ বহু আগেই নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করে। বর্তমানে পুরনো বাঁধ নদী পাড়ি দিয়ে বাহাদুরপুর অংশে গিয়ে উঠেছে। আর নতুন করে তৈরি হওয়া বাঁধ ধীরে ধীরে সরে এসে বাজারের ভেতরে পৌঁছেছে।
সচেতন ব্যক্তিবর্গ প্রশ্ন তুলেছেন—কোন বাঁধ রক্ষা করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই পুরো বুধহাটা বাজারসহ আশপাশের জনবসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
" বিবিসি সাতক্ষীরা "
সম্পাদক ও প্রকাশক : আব্দুল মতিন।
মেইল- bbcsatkhira@gmail.com ঠিকানা- পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
""বি:দ্র: এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা আইনত দন্ডণীয়""
zahidit.com