আজকের একটি বীজ, আগামী দিনের সবুজ উপকূল" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে '১ মিলিয়ন সিডস প্ল্যান্টেশন ফর কোস্টাল রেস্টোরেশন (১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগ)' বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন, শ্যামনগর গ্রীণ কোয়ালিশন এবং বারসিক যৌথভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর পৌরসভা গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি ও নকীপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়সহ নানা সংকটের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এখন সময়ের অন্যতম দাবি। এ বাস্তবতায় এবং বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ১০ লক্ষ দেশীয় বৃক্ষের বীজ সংগ্রহ ও রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কর্মসূচির আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের দেশীয় ফলজ ও বনজ প্রজাতির বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং উপযুক্ত স্থানে রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। একটি বীজ থেকে জন্ম নেওয়া একটি বৃক্ষ শুধু সবুজায়নই নয়, বরং কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটি ও নদীতীর রক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাস সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যে প্রায় ৪ লাখ বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি ৬ লাখ বীজ সংগ্রহে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে কেউ বাবলা, পরশ পিপুল, আম, জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, কুল, চটকা, আশফল, বট, কাঠবাদাম, অর্জুনসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বীজ সংগ্রহ করে এ উদ্যোগে দান করতে পারবেন। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা এসব বীজ সংগ্রহ করবেন এবং দাতাদের অবদান নথিভুক্ত করে সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
পরিবেশবন্ধু ও বৃক্ষপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল উপকূলীয় অঞ্চলের নারী, শিক্ষার্থী, তরুণ, কৃষক, জেলে, বনজীবী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের দেশীয় বীজ সংগ্রহ ও এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা ও প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জী, জেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম. বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, প্রেসক্লাব সদস্য এস এম মিজানুর রহমান, আনিসুজ্জামান সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা।
আয়োজকরা বলেন, এটি কেবল একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সহনশীল ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ উপকূল গড়ে তোলার সামাজিক আন্দোলন। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ উদ্যোগ উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
" বিবিসি সাতক্ষীরা "
সম্পাদক ও প্রকাশক : আব্দুল মতিন।
মেইল- bbcsatkhira@gmail.com ঠিকানা- পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
""বি:দ্র: এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা আইনত দন্ডণীয়""
zahidit.com