সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) মো. আব্দুল মালেকের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ১৮ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, সদর উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ওই শিক্ষকের নিয়োগকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা, এক বিষয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর অন্য বিষয়ে এমপিওভুক্তি, প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার ১৯ বছর পর বিএড স্কেল গ্রহণ এবং এমপিও সিটে অন্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার সময় মো. আব্দুল মালেককে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগের সময় তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা (বিএ পাস) ছিল না। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন তদন্ত এবং গৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির প্যাটার্নের বাইরে নিয়োগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত দেখানো হয়। তবে এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এমপিও কপিতে তাঁকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।
এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার পর পরবর্তীতে বিএড স্কেল গ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বিভিন্ন দপ্তরে তদবির ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই শিক্ষক বিএড স্কেল গ্রহণ করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন।
লিখিত অভিযোগে মো. আব্দুল মালেকের শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ থাকা এবং সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগের অভিযোগ তুলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে উত্তোলন করা সরকারি অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত করেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয় এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে অভিযোগসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত করে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তদন্ত হোক, পরে বোঝা যাবে।
" বিবিসি সাতক্ষীরা "
সম্পাদক ও প্রকাশক : আব্দুল মতিন।
মেইল- bbcsatkhira@gmail.com ঠিকানা- পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
""বি:দ্র: এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা আইনত দন্ডণীয়""
zahidit.com