সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যতিন্দ্রনগর জহিরনগর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়োগপ্রত্যাশী পরীক্ষার্থীরা।
এলাকাবাসী ও পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার মাদ্রাসাটিতে অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে বিধি মোতাবেক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার আগেই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা মোশারফ হোসেনের ছেলে মাহমুদ হাসান ও শারমিন সুলতানার নাম নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তাদের চাপে ওই দিনের নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
অভিযোগকারীরা জানান, পরদিন ২৯ আগস্ট শনিবার পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত মাহমুদ হাসান ও শারমিন সুলতানাকে উক্ত দুই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার আগেই প্রার্থীদের নাম প্রকাশ পাওয়ায় পুরো নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও পরীক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি বিএম নুরুল ইসলাম, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডিজি প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তারা কী ধরনের প্রমাণ দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, গত প্রায় তিন বছর ধরে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা নেই এবং সুপার এ বিষয়ে যথাযথ হিসাব দিতে পারেননি। একই সঙ্গে সুপারের চাকরির মেয়াদ আর মাত্র তিন মাস থাকায় শেষ সময়ে নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং হিসাব-নিকাশের বিষয় থেকে রক্ষা পেতে সভাপতির সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাবিবুর রহমান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “টাকা-পয়সার বিষয়টি সঠিক নয়। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ডিজি প্রতিনিধি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।”
শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত বলেন, “বিধি মোতাবেক শুক্রবার নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য আমি মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু এলাকাবাসীর চাপে নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। পরে ২৯ আগস্ট শনিবার নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আমি শুধুমাত্র চিঠি পেয়েছিলাম, তাই সেখানে গিয়েছিলাম। ডিজি প্রতিনিধির সঙ্গে সেখানে থাকতে হবে, এটুকুই জানি। কোনো লেনদেন হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে দাখিল ও ইবতেদায়ী শাখা, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইবাদাত হোসেন বলেন, “নিয়োগে বাণিজ্য হয়েছে, এমন অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়োগ বাতিল করে দেওয়া হবে।”
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়োগপ্রত্যাশীরা।
" বিবিসি সাতক্ষীরা "
সম্পাদক ও প্রকাশক : আব্দুল মতিন।
মেইল- bbcsatkhira@gmail.com ঠিকানা- পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।
""বি:দ্র: এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা আইনত দন্ডণীয়""
zahidit.com