শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ডুমুরিয়ার পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে শিক্ষা ব্যাবস্থা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে যেনো সু-শৃঙ্খল বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে শ্মশানে পরিনত হয়েছে। ডুমুরিয়ার পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যায়গা থাকার পরেও লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত গেইটের সামনেই গোলের ঘর নির্মান করে গেইট বন্ধ ও সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে।

 

 

খেলার মাঠের ভিতর মাটির স্তুপ, বালি ও পাথর রেখে সকল ধরনের খেলাধুলার সুযোগ নষ্ট করা হয়েছে। স্কুলের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত জমির বাইরে ও জমি দখল দিতে যেয়ে খালের উপর ভবন করায় নব নির্মিত ৪তলা ভবন হেলে পড়েছে।

 

রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে কয়েক বছরের মধ্যে নষ্ট হয়েছে ১ তলা ভবনটি। পড়ালেখার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

 

এত সব সমস্যার পরেও নিয়োগ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবছরের ২৬ জানুয়ারি পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩টি শুণ্য পদের জন্য পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩ টি পদের জন্য অনেকে আবেদন করলেও মাত্র ১৯ জন প্রার্থী পরিক্ষা দেয়। পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে ৬ জনের মধ্য ভাইভা বোর্ডে নিজের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নামও বলতে না পারাসহ কোনো উত্তর দিতে না পারা এবং ফলাফলে ৪ নম্বরে আসা সনত মহালদার, নৈশ প্রহরী পদে ৪ জনের ভিতর স্কুলের টিআর শিক্ষক প্রদিপ মাস্টরের আপন বোনের ছেলে ২য় নম্বরে থাকা ঝংকার সরদার ও অফিস সহায়ক পদে ৯ জনের ভিতর প্রধান শিক্ষক প্রভাস মাস্টারের আত্বীয় তারক চন্দ্র সরদার চুড়ান্ত নিয়োগ পায়।

 

এব্যাপারে বিদ্যালয়েরর ততকালিন অভিভাবক সদস্য নির্মল কান্তি মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “এই পর্যন্ত ৭লক্ষ টাকার মত লেদদেনের তথ্য প্রধান শিক্ষক শিকার করেছে। কিন্তু কোনো টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না করে বলছে নিয়োগের জন্য খরচ হয়ে গেছে। আমি এলাকাবাসিকে নিয়ে একটা মিটিং এর প্রস্তাব দিলে শিক্ষকেরা রাজি না হয়ে আরো ধমক দেয় অর বলে এটা কোনো নিয়মের ভিতর নাই।”

 

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “নিয়গের জন্য কতটাকা খরচ হয়েছে তা আমার খেয়াল নাই। আমার বিদ্যালয়ে কিছু চরিত্রহীন শিক্ষক আছে তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
সরেজমিনে তদন্তে পাওয়া যায়, ততকালিন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুজিত মন্ডলের একটি অডিও ক্লিপে উঠে আসে কাকে কতটাকা দেওয়া হয়েছে।

 

তদন্তে উঠে আছে, এই নিয়োগে ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে সনত মহালদার ৭ লক্ষ টাকা, নৈশ প্রহরী পদে ঝংকার সরদার ৮ লক্ষ টাকা এবং অফিস সহায়ক পদে তারক চন্দ্র সরদার ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এই চাকুরি নিয়েছে।

 

এর মধ্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুজিত মন্ডল ৪ লক্ষ টাকা পেলেও প্রধান শিক্ষক প্রভাস মাস্টার ৬০ হাজার টাকা ধার নেয়। পরে সেই ৬০ হাজার টাকা আর ফেরত দেয়নি বলে জানা গেছে। সেই সাথে সুভাস মাস্টার ও প্রবির মাস্টার ১ লক্ষ টাকা করে পেয়েছে। আর বাকি টাকা নিয়োগের জন্য প্রধান শিক্ষক প্রভাস মাস্টার খরচ করেছে এবং নিজের কাছে রেখে দিয়েছে।

 

তবে ততকালিন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুজিত মন্ডল এই অডিওটিকে নিছক মজা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেন তিনি নিয়োগের ব্যাপারে কোনো অর্থ লেনদেন করেনি। তবে পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে ভাইভা বোর্ডে সনত মহালদার কোনো উত্তর না দিতে পারলেও লিখিত পরিক্ষায় হয়তো ভালো করেছে সে অত্যান্ত সহজ সরল, যে জন্য ভাইভা বোর্ডে একটু ঘাড়ে গিছিলো।

 

নিজের আপন অগ্নের চাকুরি হওয়ায় প্রদিপ মাস্টার বলেন,“ ঝংকার আমার বোনের ছেলে, সে অনেক দরিদ্র ও মেধাবী, সে ভালো ফল করায় তার নৈশ প্রহরী পদে চাকুরি হয়েছে।

 

পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে নিয়োগ পাওয়া সনত মহালদারে কাছে তথ্য নিতে গেলে তার বড় ভাই সনজিত মহালদার সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচারন করে এবং চিল্লাপাল্লা করে। সেই ভিডিও ফুটেজ সহ সকল প্রমান এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

 

এলাকার সচেতন মহল এই ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্শন করেন এবং বিদ্যালয়ের থেকে সকল অপশক্তি দূর করে পূর্বের মত সুন্দরভাবে যেনো শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা গ্রহন করতে পারে সেই দাবী জানান।

SHARE