ডুমুরিয়ায় জলমহাল অপেশাদারদের দখল কে‌ কেন্দ্র করে ‌সংবাদ সম্মেলন

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা। সোমবার সকাল ১১টার সময়‌ ডুমুরিয়া শহীদ কমরেড শেখ আব্দুল মজিদ মিলনায়তনে ‌ ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সন্জয় বিশ্বাস সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মহাসচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন ডুমুরিয়া ‌উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, উপজেলা ভূমি কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ মাহতাব হোসেন, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার, মৎস্যজীবীদের বংশানুক্রমিক পেশা আপনারা সকলেই জানেন যে, আমাদের পরিচয় আমরা মৎস্যজীবী।

 

 

প্রকৃত মৎসজীবী হিসেবে আমরা বংশানুক্রমিক পেশার সাথে সম্পৃক্ত থেকে মুক্ত ও বদ্ধ জলাশায়ে মাছ ধরে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করি। মৎস্য উৎপাদন, আহরণ এবং বিক্রয়ই আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস। অথচ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বেশিরভাগ জলমহালগুলো আমাদের দখলে নেই। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ঘোষণা দেয় ‘জাল যার জলা তার’। এবিষয়ে সরকার নীতিমালাও তৈরী করে। সরকারী নীতিমালানুযায়ী প্রকৃত মৎসজীবী ছাড়া অন্য কারো জলমহাল পাওয়ার সুযোগ নেই। ঘোষিত নীতিমালায় বলা হয়েছে দেশের খাস জলাশয় ও জলমহালসমূহ প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনুকূলে বন্দোবস্ত প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া এবং রাজস্ব আরোর পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হবে।

 

 

খুলনা জেলা ব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য জলমহাল। অথচ আমরা অন্যের জলমহালে শ্রম বিক্রি করেই জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করি। জেলায় এ ধরনের বিপুল সংখ্যক জলমহাল থাকলেও বেশিরভাগ জলমহাল চলে গেছে প্রভাবশালি অমৎস্যজীবীদের দখলে। এ কারণে জেলার কয়েক হাজার নারী পুরুষ মৎস্যজীবী এখন আমাদের বাপ দাদার পেশা হারিয়ে ফেলতে বসেছি।

 

 

বিকল্প আয়ের উৎসে এখন আমরা বংশানুক্রমিক মৎস্য পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি। অ-মৎস্যজীবী অবৈধ প্রভাবশালী দখলদারদের হাত থেকে জলমহাল উদ্ধার করা, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী মৎস্যজীবীদের তালিকা হাল নাগাদ করে বাদ পড়া জেলেদের জেলে কার্ড প্রদান এবং সাগর ও নদ-নদীতে মৎস্য আহরণকারী এবং ইলিশ আহরণকারী জেলেদের চিহ্নিত করে প্রচলিত খাদ্য সহায়তা প্রদান করা, উন্মুক্ত জলমহালে সরকারী দখল ও রাজস্ব আয় এবং জেলেদের শান্তিপূর্ণ মৎস্য আহরণের স্বার্থে প্রকৃত জেলেদের টোকেন রাজস্বের বিনিময়ে লাইসেন্স বা অনুমতি প্রদান এখন সময়ের দাবি মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে জলমহাল বন্দোবস্ত দেবার অঙ্গীকার করেছিলেন। ২০০৯ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ‘সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৯’ প্রনীত হয়। এ নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য ‘জাল যার জলা তার’ এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করা।

 

 

 

অসংখ্য নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা খুলনা। এই জেলায় কয়েক হাজার মানুষ মৎস্য আহরণ, বিক্রয় ও বিপনন কাজের উপর সম্পুর্ন নির্ভরশীল। এটাই তাদের জীবন জীবিকার বিশেষ অবলম্বন । খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় ২০ একরের উর্দ্ধে জলমহাল আছে ৩৩টি। ২০ একর পর্যন্ত জলমহাল রয়েছে ১০৩টি। এই বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে এক সময় জেলে সম্প্রদায়ের প্রথাগত অধিকার ছিল।

 

 

 

 

নদী ভরাট, অধিক খাদ্য ফলাও নীতির কারণে সৃষ্ট ওয়াপদা বাঁধ, চিংড়ী ঘেরের মধ্যে অবস্থিত সরকারী খাস জমি চিংড়ি চাষীদের লীজ দেওয়ার কারণে আমরা আমাদের প্রথাগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হতে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছি। যার ফলে দরিদ্র অসহায় মৎস্যজীবীরা আরো দরিদ্র ও বেকার হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অমৎস্যজীবীদের হাতে জলমহালগুলি থাকায় মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি অমৎস্যজীবীদের দ্বারা বিচরণ ভূমি সংকুচিত হওয়ার কারণে অনেক প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছও বিলুপ্ত হচ্ছে। জেলার অনেকগুলি জলমহাল ভূমি দস্যুরা জাল দলিল/ কাগজপত্র তৈরীর মাধ্যমে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিজেদের অধীনে। রেখেছে। মামলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ ভূমিকা না থাকায় এই সব জলমহালগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দস্যুদের দখলে। ফলে সরকার একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছে।