• শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৪
সর্বশেষ :
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বালুইগাছায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের গলায় দড়ি দিয়ে আ*ত্মহ*ত্যা না.গঞ্জ সদরে ত্রয়োদশ জতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা শ্যামনগরে ৪১বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি আটক সাতক্ষীরা ডিবির অভিযানে ৪৯৭ বোতল উইন কোরেক্সসহ ২ জন গ্রেফতার আশাশুনির শিশু আলভী ৪ দিন নিখোঁজ সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার তালার সুভাষিনী গ্রামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট দেবহাটায় বিধবা ও প্রতিবন্ধীর জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীর থানা পুলিশের অভিযানে ৩জন গ্রেফতার

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে পালতোলা নৌকা 

বগুড়া প্রতিনিধি / ১২৭৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
হারিয়ে যাচ্ছে পালতোলা নৌকা 

গত কয়েকদিন ধরেই বগুড়া সারিয়াকান্দির নদীতে দেখা মিলছে পালতোলা নৌকার। উপজেলার যমুনা নদীতে এখন নৌকা পাল তুলে আপন মনে দুর্গম চরাঞ্চলে পারি জমাচ্ছেন চরবাসী। অনেক বছর পর নদীতে পালতোলা নৌকা দেখে চেয়ে থাকেন নদী তীর দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথিক।
আগে পালতোলা নৌকা ব্যবহার করা হতো। ইঞ্জিন চালিত যানবাহন চালু হওয়ার পর থেকেই কমতে থাকে পালতোলা নৌকা। সেইসাথে বিলুপ্ত হতে থাকে পালতোলা নৌকা। তবে শরতের বাতাসে যমুনায় সকালে বা বিকালে হঠাৎ দেখা মিলছে পালতোলা নৌকার।
পালতোলা নৌকার মাঝি ধলু ফকির জানান, তেলের দামের সাথে তালমিলিয়ে চলতে না পেরে তিনি পালতোলা নৌকার ব্যবহার পুনরায় শুরু করেছেন। যমুনা চরে লাল মরিচ, স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান এবং মাসকলাই এর আবাদ আছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তিনি যমুনার ডানতীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িঁবাধে বসতি গড়ে তুলেছেন। ফসলের যত্ন করতে এবং নিজের গরুর জন্য ঘাস আনতেই তিনি পালতোলা নৌকায় প্রতিদিন যমুনা নদী পাড়ি দেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শ্যালো মেশিন নৌকায় ব্যবহার শুরুর পর থেকেই পালতোলা নৌকার কদর কমে যায়। আর এসব মেশিন গুলো চালু হওয়ার পর পরই বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন চালিত যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তখন থেকেই কমতে শুরু হয় পালতোলা নৌকার। গত কয়েকবছর শ্যালো মেশিন চালিত নৌকা ব্যবহার করেছি। এখন তেলের দাম বেশি তাই আবারও পালতোলা নৌকা চালানো শুরু করেছি। এতে আমার কোনও খরচই হচ্ছে না। যমুনা, বাঙালি এবং সুখদহ নদী বেষ্টিত বগুড়া সারিয়াকান্দির বিভিন্ন বন্দরে আগে ভিড়ত নানা ধরনের পালতোলা নৌকা। তখন এখানে ব্যবসা বানিজ্যের অন্যতম বাহন ছিল এ পালতোলা নৌকা। সাধারণ পালতোলা নৌকাতে হাজারীপাল, বিড়ালীপাল, বাদুরপাল ইত্যাদিপালের ব্যবহার ছিল। প্রমোদ ভ্রমণে ময়ূরপঙ্খী, পানসি ও মধ্যবিত্তদের বজরা, নৌকা ব্যবহৃত হতো। কৃষকরা গস্তি ও ডিঙি আর নিম্নবিত্তরা ঘাটে গয়না ও কোষা নৌকা ব্যবহার করতেন। নৌকায় দাঁড় টানার কাজে ব্যবহার করা হত কৃতদাসদের। দাঁড় টেনে নৌকা বাওয়া অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও ক্লান্তিকর। পালের উদ্ধাবন এ অবস্থা থেকে মানুষকে খানিকটা মুক্তি দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, আশরাফুল ইসলাম জানান  ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা যানবাহন এখন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। এর কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, এতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাচ্ছে বিষাক্ত পরিবেশ। বাড়ছে এজমাসহ নানা ধরনের দুরারোগ্য অসুখ। বর্তমানে সারিয়াকান্দি যমুনায় দেখা মিলছে পাল তোলা নৌকার। এতে একদিকে আমাদের জ্বালানি তেলের সাশ্রয় হচ্ছে অপরদিকে পরিবেশ ভাল থাকছে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। তাই আমাদের আগের সেই পালতোলা নৌকার যুগে ফিরে যেতে হবে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com