• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০১
সর্বশেষ :
ধূলিহরে মোটর চুরি চক্রের এক সদস্য আটক, ছয়টি মোটর উদ্ধার পাইকগাছায় বাড়ছে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার : বাড়তি আয় করছেন উদ্যোক্তা শুকুরুজ্জামান তালায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা দেবহাটায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণভোট বিষয়ে ইউএনওর উঠান বৈঠক না.গঞ্জ সদর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বড়দল বাজার উন্নয়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন তালায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক একজন ব্রহ্মরাজপুর বাজারে সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে কুরআনের পাখিদের মাঝে কম্বল প্রদান ভেঙে ফেলা হলো আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় না.গঞ্জ সদরে দিনব্যাপি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

পাইকগাছায় বাড়ছে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার : বাড়তি আয় করছেন উদ্যোক্তা শুকুরুজ্জামান

ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, খুলনা / ৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

খুলনার পাইকগাছায় কৃষি জমিতে জৈব সারের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়েছে। তরমুজ ও বিভিন্ন সবজি চাষে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়াতে এখন অধিকাংশ কৃষকই ঝুঁকছেন জৈব সারের দিকে। বাজার থেকে কেনা জৈব সারের তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্টের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

 

এ চাহিদার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। তাদের মধ্যে একজন সফল উদ্যোক্তা হলেন জিএম শুকুরুজ্জামান। তিনি বছরে প্রায় ২০ মেট্রিক টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে বাড়তি আয় করছেন। তাকে অনুসরণ করে আরও অনেকেই ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জৈব সারের উৎপাদন বাড়লে কৃষি জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে এক সময় কৃষকরা জৈব সার ছাড়া ফসল উৎপাদনের কথা চিন্তাই করতেন না। কিন্তু গত দুই থেকে তিন দশকে কৃষি কাজে জৈব সারের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির জৈব উপাদান নেমে আসে শূন্যের কোঠায়। মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে।

 

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত গাজী আবুল কাশেমের ছেলে জিএম শুকুরুজ্জামান উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি শুকুরুজ্জামান নিজের বসতবাড়িতেই ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

 

গোবর ও থাই প্রজাতির কেঁচো ব্যবহার করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তিনি উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন করছেন। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তার উৎপাদিত সারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। নভেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সারের চাহিদা বেশি থাকায় তিনি আগেই উৎপাদন করে মজুদ রাখেন এবং মৌসুমে কৃষকদের সরবরাহ করেন।
বাইনবাড়িয়া গ্রামের কৃষক তন্ময় বাইন বলেন, “আমি এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রয়োজনীয় জৈব সার শুকুরুজ্জামানের কাছ থেকেই কিনেছি।”

 

হুগলার চক গ্রামের মডেল কৃষক মলয় মণ্ডল বলেন, “বাজারের সারের চেয়ে তার ভার্মি কম্পোস্টের মান অনেক ভালো। তাই সব সার তার কাছ থেকেই নেই।”

 

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, শুরুতে শুকুরুজ্জামান ১২ থেকে ১৫টি হাউজে উৎপাদন শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেড়েছে এবং সারের মান ভালো হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে ব্যবহার করছেন।

 

জিএম শুকুরুজ্জামান বলেন, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করি। চাহিদা বাড়ায় ধীরে ধীরে উৎপাদনও বাড়িয়েছি। এখন দূরদূরান্তের কৃষকরাও আমার কাছ থেকে সার নিতে আসেন। এতে এলাকার অনেক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, আর আমারও বাড়তি আয় হচ্ছে।”

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “ভার্মি কম্পোস্টকে মাটির প্রাণ বলা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে জৈব উপাদান এক ভাগেরও কম। এ অবস্থায় জৈব সার ব্যবহারের বিকল্প নেই। জিএম শুকুরুজ্জামানের মতো উদ্যোক্তারা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছেন।”

 

তিনি আরও জানান, তরমুজ, সবজি, নার্সারি ও ছাদ বাগানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে বর্তমানে জৈব সারের বড় একটি অংশই আসছে ভার্মি কম্পোস্ট থেকে। মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com