গত কয়েকদিন ধরে ঘনো কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় মাগুরার মহম্মদপুরে জেঁকে বসেছে শীত। পৌষের কনকনে বাতাসে হাড় কাঁপানো শীতের কামড়ে কাঁপছে উপজেলাবাসী। প্রচন্ড শীতে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা! প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাহির হচ্ছেন না। এতে বিপদে পড়েছেন নিন্ম আয়ের মানুষ। শীতের প্রকোপে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে উপছে পড়ছে ভীড়।
সূদুর হিমালয় থেকে আসা উত্তরের হাড় কাঁপানো কনকনে বাতাসে শীতের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষের বাইরে চলাচল অনেকটা কমে এসেছে। জরুরি কাজ না থাকলে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে বিপদে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যারা মাঠে কাজ করেন অথবা নদীতে মাছ ধরেন তাদের জীবনযাত্রা দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রায় সপ্তাহখানিক হলো সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সকাল থেকেই সর্বত্র ঘনো কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিলো আকাশ। সন্ধ্যা হলেই বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে শিশির। তাপমাত্রা নেমে আসার পাশাপাশি প্রচন্ড হিমেল হাওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা। পৌষের শেষভাগে শীতের প্রকোপে জুবুথুবু অবস্থায় সময় কাটছে ঘরের মধ্যে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শীতের কামড় থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ পুরানো কাপড়ের খোঁজে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে। আবার অনেকেই চুলাই বা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। প্রায় এক সপ্তাহ হলো আকাশের কোথাও সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে করে বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধ মানুষেরা নানান ঠান্ডা জনিত রোগের স্বীকার হচ্ছে। অপরদিকে গৃহপালিত জীবজন্তু ও বন্য পশু-পাখি শীতের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ঘনো কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে রাতের বেলায় গাড়ি চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে!
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কাজী আবু আহসান জানান, হাসপাতালে এই মুহূর্তে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ শীত জনিত নানান রোগে প্রচুর পরিমাণে রোগী প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে। বিশেষ করে, শিশু এবং বৃদ্ধ রোগীদের সংখ্যা সব থেকে বেশি। ”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ: শাহানুর জামান জানান,” এবছর শীত উপলক্ষ্যে উপজেলার নিন্মআয়ের মানুষের জন্য তেমন কোন বরাদ্দ আসে নাই তবে মহম্মদপুরের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল আমারা ইতিমধ্যে বিতরণ করেছি।”
https://www.kaabait.com