সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ২১টি পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষে রং-তুলির শেষ আঁচড়ে প্রতিমাগুলো পেয়েছে পূর্ণতা। পাশাপাশি পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি।
আগামী ১৫ অক্টোবর বোধন এবং ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্দিরে সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন ও প্রস্থানের বাহন নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে। এবছর দেবীর আগমন ঘোটকে (ঘোড়া) এবং প্রস্থান নৌকায় হবে বলে আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোটকে আগমনকে সামাজিক অস্থিরতার প্রতীক এবং নৌকায় প্রস্থানকে শস্য ও জলবৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
দেবহাটা উপজেলায় এবার পাঁচটি ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কুলিয়া ইউনিয়নে বহেরা দুর্গাপূজা মণ্ডপ, কুলিয়া ঘোষপাড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শ্যামনগর পশ্চিমপাড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ, বালিয়াডাঙ্গা দুর্গাপূজা মণ্ডপ, হিজলডাঙ্গা দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শ্যামনগর পূর্বপাড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ ও সুবর্ণাবাদ দুর্গাপূজা মণ্ডপ রয়েছে।
পারুলিয়া ইউনিয়নে সন্ন্যাসখোলা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ, উত্তর পারুলিয়া চারা বটতলা দুর্গাপূজা মণ্ডপ, দক্ষিণ পারুলিয়া জেলেপাড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ, নোড়ারচক দুর্গাপূজা মণ্ডপ, বড়শান্তা দুর্গাপূজা মণ্ডপ, মাঝ পারুলিয়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ ও উত্তর কোমরপুর দুর্গাপূজা মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সখিপুর ইউনিয়নে পালপাড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপ ও কোড়া পাকড়াতলা দুর্গাপূজা মণ্ডপ, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে গাজীরহাট দুর্গাপূজা মণ্ডপ এবং দেবহাটা সদর ইউনিয়নে ফুটবল মাঠ দুর্গাপূজা মণ্ডপ, দেবহাটা বাজার দুর্গাপূজা মণ্ডপ, টাউনশ্রীপুর দুর্গাপূজা মণ্ডপ ও টাউনশ্রীপুর পালপাড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিমা শিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে মাটির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর রং ও তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে। পূজাকে সামনে রেখে মণ্ডপগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা মণ্ডপের কমিটির নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উপজেলার ৩-৪টি মণ্ডপে তুলনামূলক বেশি জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পৃথক টিমও গঠন করা হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন এবং ৯ অক্টোবর থানা প্রশাসনের উদ্যোগে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেবহাটা ফুটবল মাঠ পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি দীপঙ্কর ঘোষ জানান, এবার পূজা উদযাপনে সরকারি বরাদ্দ আগের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পূজা মণ্ডপের কমিটির নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম ও মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন মণ্ডপ ও আশপাশে অতিরিক্ত জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে
https://www.kaabait.com