• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১
সর্বশেষ :
ইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা, শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমী সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট, তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের নিয়ে চিকিৎসকের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ ধানদিয়া ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আসাদুজ্জামানের গণসংযোগ,১৮ পূজামণ্ডপে অনুদান সাতক্ষীরার আলিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ দেহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম তালায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ তালার খলিলনগরে বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ জিল্লুর রহমানের দল চায়নি, বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে: ইশরাক

ইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা, শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমী

কেএম রেজাউল করিম, দেবহাটা সাতক্ষীরা / ১৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
Oplus_131072

একসময় বিজয়া দশমী এলেই দেবহাটার ইছামতি নদীর দুই পাড়ে বসত দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। নদীতে ভাসত শত শত নৌকা, সীমান্তের দুই পাশে জড়ো হতেন হাজারো মানুষ। উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠত পুরো সীমান্ত এলাকা। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। মিলনমেলা নেই, নেই আগের সেই জনসমাগম কিংবা নৌকার সারি। সীমান্তের নিজ নিজ অংশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে এবারের বিজয়া দশমী।

 

গত কয়েক বছরের মতো এবারও দেবহাটার ইছামতি নদীতে দুই দেশের মানুষের অংশগ্রহণে কোনো মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সীমিত সংখ্যক নৌকা নদীতে নামতে দেখা গেলেও আগের মতো বড় কোনো আয়োজন ছিল না।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগেও বিজয়া দশমীতে ইছামতি নদীর এই সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মানুষের মিলনমেলা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দেবহাটার বিভিন্ন প্রান্তসহ দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসতেন। ভারতীয় সীমান্তের পাশেও থাকত মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। কেউ আসতেন সীমান্তের কাছাকাছি উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে, আবার কেউ আসতেন দুই বাংলার মানুষের মিলন দেখার আকর্ষণে। নদীর দুই পাড়ে ভাসত শত শত নৌকা।

 

২০১২ সালে ভারতের কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নৌকাডুবিতে মারা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের আয়োজনের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেই সময় থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ইছামতীর ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা। এরপর থেকে দুই দেশের মানুষ নিজ নিজ সীমান্তের মধ্যে থেকে পৃথকভাবে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে আসছেন।

 

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেবহাটা উপজেলার ২১টি পূজামণ্ডপে সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন শেষে বিজয়া দশমীতে পৃথকভাবে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

 

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস্ কাউসার আজিজ, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

 

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, “এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সার্বিকভাবে মনিটরিং করা হয়েছে।”

 

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
মিলনমেলার সেই পুরোনো স্মৃতি ইছামতির বুকে আজও থাকলেও বাস্তবে নেই আগের সেই আয়োজন। তবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবহাটায় শেষ হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com