সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুটি ডিঙি নৌকাসহ সাত জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। রোববার সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দিনভর এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় পুষ্পকাঠি অভয়ারণ্য কেন্দ্রের তালতলি খাল এলাকায়। সেখান থেকে কাঁকড়া ধরার একটি ডিঙি নৌকা জব্দ করা হয়। এ সময় ৫৭টি আটুন (কাঁকড়া ধরার ফাঁদ) ও ৩টি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বন মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।দ্বিতীয় অভিযানটি হয় কদমতলা স্টেশনের ফিরিঙ্গি খালের অভয়ারণ্য অংশে।
সেখান থেকে মাছ ধরার একটি ডিঙি নৌকাসহ সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৩০০ ফুট ফাঁস জাল, ১৫০ কেজি মাছ, ৯টি পানির ড্রাম, কর্কশিট, হাইল, দাঁড়, বৈঠা, হুক ও কুড়াল জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- মোহাম্মদ তৈয়ব আলী (৫৫), শাহাবাজ আলী (৫২), আইয়ুব আলী গাইন (৫৫), ওয়াহিদুল ইসলাম (৫৪), ছালাম গাইন (৫৬), আব্দুর রউফ (৪০) ও মো. আলিম (৩৮)। তাদের সবার বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পারশে মারিগ্রামে, পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আসামিদেরকে বন আইন এ মামলা দিয়ে কোটি প্রেরণ করা হয়েছে, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকাগুলো মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসব এলাকায় অবৈধভাবে মাছ আহরণ করা হলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের সামগ্রিক জলজ জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
পাশাপাশি, অভয়ারণ্য আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে বন বিভাগের পাশাপাশি জেলে, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
https://www.kaabait.com