• সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৬
সর্বশেষ :
নগরঘাটায় গভীর রাতে বাড়িতে হা*ম*লা, স্বামী-স্ত্রীসহ আ*হ*ত ৩ আশাশুনির কমলাপুরে রাফাতের মৃ*ত্যু নিয়ে মানববন্ধন ও বি*ক্ষোভ শ্যামনগরে অ*বৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুইজনের কা*রা*দণ্ড, বাল্কহেড জব্দ শ্যামনগরে সাংবাদিককে হ*ত্যার হু*মকি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন তালায় মাদক-জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হু*মকি দেবহাটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন ডুমুরিয়ায় বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সীমানা পিলার উদ্ধার কাণ্ডে নতুন মোড়; মামলায় যুবদল নেতার নাম আশাশুনিতে স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে ব*হিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হতেই মা*ম*লার স্বাক্ষীকে হু*ম*কি যুবদল নেতার

ডুমুরিয়ায় গরু দিয়ে হালচাষ বিলুপ্তির পথে

শেখ মাহাতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা / ১৫৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

এক সময় গ্রামবাংলার স্বাভাবিক চিত্র ছিল গরু দিয়ে হাল চাষ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন বিলুপ্তির পথে এই পদ্ধতি। হালচাষের পরিবর্তে এখন  ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়।

 

অথচ দুই যুগ আগেও নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে সংসারের ব্যয়ভার বহন করত দরিদ্র মানুষ।

 

কাক ডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন। এ দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলার চলে আসছে।

 

খুলনার অন্যতম বৃহত্তর উপজেলা ডুমুরিয়ার  বিলীন হওয়ার পথে এই পদ্ধতি। গরু দিয়ে জমি চাষ ঐতিহ্যবাহী ও একটি সনাতন পদ্ধতি হলেও এর অনেক উপকারীতাও ছিল। কারণ লাঙলের ফলা জমির অনেক গভীর অংশ পর্যন্ত আলগা করতো। গরুর পায়ের কারণে জমিতে কাদা হতো অনেক এবং গরুর গোবর জমিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক বৃদ্ধি করতো।

 

উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে পেশা হিসেবে নেওয়া আব্দুস সাত্তার সরদার (৫০) নামের একজন কৃষক জমিতে গরু দিয়ে হালচাষ করছেন। হালচাষ করছেন তার ছেলে আব্দুল হালিম (২৫)।

 

তারা জানান, ছোটবেলা থেকে হাল চাষের কাজ করে আসছ। হালচাষের জন্য দরকার এক জোড়া গরু, কাঠ আর লোহার সমন্বয়ে তৈরি লাঙ্গল, জোয়াল, মই, পান্টি, গরুর মুখের লাগাম ইত্যাদি। গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হয়, ফসল ভালো হয় এবং জমির উর্বরতা বাড়ে।

 

শোভনা ইউনিয়নের কৃষক আজহারুল ইসলাম বলেন, অনেকের জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে চাষের লাঙ্গল জোয়াল আর গরুর পালের সঙ্গে। গরু দিয়ে হালচাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো, হালচাষ করার সময় গরুর গোবর সেই জমিতেই পড়ত। এতে করে জমিতে অনেক জৈব সার হতো, এ জন্য ফসলও ভালো হতো।

 

একই এলাকার কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে আমার লাঙ্গল-জোয়াল আর গরুর পালের সঙ্গে। বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা মেশিন দিয়ে হালচাষ করি।

 

শিক্ষক শেখ জাহিদুর রহমান জানান, কৃষিকাজে লাঙ্গলের ব্যবহার পরিবেশ বান্ধব এবং গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যও বটে। কষ্ট হলেও গরু দিয়ে হাল চাষ করতে খুব ভালো লাগত। বেঁচে যেত অনেক দরিদ্র কৃষকের প্রাণ।

 

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসান ইবনে আমিন বলেন, কৃষিতে শ্রমিকের ঘাটতি নিরসনে এবং দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করার জন্যই কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছে। এক সময় গরু ও লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ করা হলেও এখন প্রায় অধিকাংশ কার্যক্রম যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। কৃষকদের জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান প্যাকেটজাত করণের সকল কাজই অত্যাধুনিক কৃষিযন্ত্রের মাধ্যমে সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে হচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com