• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪
সর্বশেষ :
তালায় সার ডিলার নিয়োগে বঞ্চনার শিকার ছাত্রদল নেতা জুয়েল: নেপথ্যে বারবার অবমূল্যায়নের ইতিহাস একজন কিংবদন্তি ও এক অনন্য ভালোবাসার নাম লিওনেল মেসি : সুমন চৌধুরী পাইকগাছায় মাদক বিক্রির টাকা আদায় করাকে কেন্দ্র করে গুলি সাতক্ষীরায় মানব পাচার প্রতিরোধে সক্রিয় কর্মী দলের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত নিরাপত্তায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি, থাকছে মনিটরিং টিম ও নিয়মিত টহল দেবহাটায় মাদক, চুরি ও জুয়া প্রতিরোধে ওসি শাহীনের মতবিনিময় সভা তালায় সমতা ফোরাম সিএসও হাবের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার ৪টি অবৈধ রিসোর্ট উচ্ছেদে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়ূন কবিরের সাফল্য সাতক্ষীরায় জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা

এখন চিংড়ির বড় বাজার দেশেই

প্রতিনিধি: / ৫৩৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

অর্থনীতি: আমাদের দেশে উৎপাদিত চিংড়ির দাম বিদেশের বাজারে তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় রপ্তানির পরিমাণ সামান্য কমেছে, তবে দেশে চিংড়ির বাজার স¤প্রসারিত হয়েছে। ফলে উৎপাদিত চিংড়ি বিদেশে রপ্তানিতে ভাঁটা পড়লেও উৎপাদকরা তা বাজারজাতকরণে সমস্যায় পড়ছেন না। চিংড়ি উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকে মূলত চিংড়ি চাষ শুরু ও বিস্তার ঘটেছিল বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভর করে। তখন উৎপাদিত চিংড়ির প্রায় শতভাগ বিদেশে রপ্তানি হতো। এই ধারা দীর্ঘদিন বজায় ছিল। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়, ইউরোপের বাজারে মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কভিড এবং ভিয়েতনাম ও চীনে উৎপাদিত তুলনামূলকভাবে কম দামি ভেনামি চিংড়ির দাপটে আমাদের দেশে উৎপাদিত গলদা ও বাগদা চিংড়ি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না। দীর্ঘদিন থেকে রপ্তানিকারকরা দেশে ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে আশার কথা হলো, দেশেই চিংড়ির বড় বাজার তৈরি হয়েছে। ৩০-৪০ বছরের ব্যবধানে দেশের বিরাট একটা অংশের মানুষ তাদের খাবারের তালিকায় গলদা বা বাগদা চিংড়ি রাখছে, যা আগে ছিল না। এতে উৎপাদিত চিংড়ির বাজারজাতকরণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। মৎস্য অধিদপ্তরের সূত্র মতে, সুন্দরবন উপক‚লীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় মূলত চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে। সামান্য কিছু চিংড়ির চাষ হয় কক্সবাজারে। খুলনা অঞ্চলে এখনো বিপুল পরিমাণে চিংড়ির উৎপাদন হয়। চিংড়ি রপ্তানীকরণ কারখানাগুলোর বেশির ভাগই খুলনা অঞ্চলে। গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে চিংড়ির উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৬১ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিদেশে রপ্তানি হয়েছে ৩০ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন। আর বাকি চিংড়ি দেশের বাজারেই বাজারজাত হয়েছে। দেশের বাজারে চিংড়ির দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ডুমুরিয়ার চিংড়ি চাষি আবু বকর বলেন, মৎস্য বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি বেশ কয়েক বছর তাঁর পাঁচ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করছেন। শুরুর দিকে চিংড়ির দাম পাবেন কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও এখন আর চিংড়ি বিপণন ও দাম নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর উৎপাদিত চিংড়ি ব্যবসায়ীরা খামার থেকেই কিনে নিয়ে যান। সেই চিংড়ি স্থানীয় বাজারেও যেমন বিক্রি হয়, তেমনি রপ্তানিকারকরাও কিনে থাকেন। খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল বলেন, বিদেশে চিংড়ি রপ্তানির পাশাপাশি দেশের বাজারে চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চিংড়ি চাষিরা দামও পাচ্ছেন বেশ। এই পণ্যটি আর রপ্তানিনির্ভর পণ্য নেই। শুধু রপ্তানিনির্ভর পণ্য হলে তা টিকে থাকার ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়, চিংড়ির ক্ষেত্রে সেই শঙ্কা নেই। এটি ঠিক যে, রপ্তানির সুযোগ থাকায় চিংড়ি চাষের বিস্তার ঘটেছিল, এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনেক বেড়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিএফএফইএর পরিচালক ও আমাম সি ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দামের কারণে বিদেশের বাজারে আমাদের চিংড়ি একটু পিছিয়ে আছে। কারণ, অন্যান্য দেশ থেকে তুলনামূলকভাবে কম দামে ভেনামি রপ্তানি হচ্ছে। তাই বলে আমাদের চিংড়ি যে রপ্তানি হচ্ছে না, তা নয়; তবে আশানুরূপ নয়। আর এটা ঠিক যে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এখন অনেক বড়। আগে খুলনা অঞ্চলে বিশেষ সময়ে গলদা চিংড়ি খাওয়ার প্রচলন ছিল, এখন গলদা বা বাগদা চিংড়ি একেবারে সাধারণ খাবার তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে।’


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com