• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮
সর্বশেষ :
দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা শ্যামনগরের গাবুরায় বনদস্যুদের সহযোগিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন সাংবাদিক শাহীন গোলদারের মায়ের মৃত্যুতে তালা প্রেসক্লাবের শোক তালায় মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে পেটাল মাদক কারবারিরা, থানায় জিডি সম্ভাবনা ও সংকটে দেবহাটা: পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের চোখে আগামীর প্রত্যাশা দেবহাটায় ৬৯৬ বোতল উইনকেরেক্সসহ নারী আটক, দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা শতবর্ষি কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দেবহাটায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পর্নে বিভিন্ন মন্দিরে ওসির পরিদর্শন সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে চ্যানেল আই এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ফেক ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি খুলে ছবি বিকৃতি ও ব্ল্যাকমেইলিং সাতক্ষীরায় থানায় জিডি

জুলাই সংগ্রামের বার্তাবীর, সাতক্ষীরার গর্ব মাহিন

মো: আলাউদ্দিন / ২১৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

জুলাইয়ের উত্তাল রাজপথ তখন বারুদের গন্ধে ভারী, আতঙ্ক আর প্রত্যয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লিখছিল একটি প্রজন্ম। সেই সময় কলম, ক্যামেরা আর মোবাইল ফোন হাতে যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনের বাস্তব চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন, তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সন্তান এইচ এম মাহিন। সাহসিকতা ও পেশাদার দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন “জুলাই বার্তাবীর সম্মাননা।

 

 

দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া বিভাগে কর্মরত সাংবাদিক মাহিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাঠপর্যায়ে থেকে আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণ করেন। সংঘর্ষ, প্রতিরোধ, শোক আর প্রতিবাদের যে নির্মম বাস্তবতা রাজপথে ছড়িয়ে ছিল, তা তিনি ক্যামেরার ফ্রেমে ও প্রতিবেদনের শব্দে তুলে ধরেন পাঠকের সামনে। তার কাজ শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল ইতিহাসের দলিল।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে ফেলানী হত্যা দিবসের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।

 

আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে এবং জাম (JAM) ও বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি)-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিকসহ প্রায় এক হাজার দুইশ’ জনের মধ্যে স্মারক ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত মোট ১০২ জন সাংবাদিককে ‘জুলাই বার্তাবীর সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।

 

সদস্য সচিব আলামিন আতিয়া ও ডাকসু সদস্য তাজিনুর রহমান এ-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তারেক আজিজ।

 

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী।

 

জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্যে রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবাহ।
সাতক্ষীরার মতো একটি সীমান্তবর্তী জেলা থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে এমন সম্মাননা পাওয়া মাহিনের জন্য যেমন ব্যক্তিগত অর্জন, তেমনি তা পুরো জেলার সাংবাদিক সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে যে ঝুঁকি, সাহস আর দায়বদ্ধতা তিনি দেখিয়েছেন, ‘জুলাই বার্তাবীর সম্মাননা’ তারই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

 

মাহিন আজ শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি জুলাই সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিলকার—যার কলম আর ক্যামেরায় ধরা আছে সময়ের সাহসী ইতিহাস।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com