• সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৩
সর্বশেষ :
অন্ত-কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপির পরাজয় জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান কারা থাকছেন বিএনপির নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়? যা জানা গেল তালায় যুবদলের কার্যালয় দখলের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবি দেশ ছেড়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব পাটকেলঘাটা বাজার বণিক সমিতির সংবর্ধনায় সিক্ত এমপি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ শ্যামনগরে সুন্দরবন দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী গোলাম পরোয়ারের সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা সাতক্ষীরায় উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে সাতক্ষীরার ভোট গ্রহণ

অন্ত-কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপির পরাজয়

আব্দুল মোমিন / ৩৬ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনে বিএনপির শোচনীয় পরাজয়ের পর জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বে থাকা নেতৃবৃন্দ ও হাই কমান্ড এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ভুল সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি, দলীয় গ্রুপিং, প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল সিদ্ধান্ত সহ তৃণমূল কর্মীদের উপেক্ষা করার কারণেই এ ভরাডুবি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে কেউ জেলা নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করছেন, আবার স্থানীয় নেতারা কর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে খরচ না করে নিজেদের পকেটে রাখার অভিযোগ করেছেন। আবার কেউ দলীয় ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কারা থাকছেন বিএনপির নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায়? যা জানা গেল

 

অপরদিকে প্রার্থী ও স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করে বলেন সাতক্ষীরা জেলায় একটি দল বেহেস্তের টিকিটের লোভ দেখিয়ে সাধারণ জনগণের ব্রেন ওয়াশ করে ভোট নিয়েছেন। এলাকায় অভিযোগ উঠেছে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ির বউ, ও মেয়েরা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের দ্বারা ব্রেন ওয়াশ হয়ে বেহেস্তের টিকিটের লোভে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন।

 

সাতক্ষীরা ০১ (তালা কলারোয়া) আসন এ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এর কাছে ২৩৭৭৭ ভোটে পরাজিত হন।বিগত দিনে জামায়াত ইসলামীর সাথে জোট বদ্ম নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাটকেলঘাটা কে প্রশাসনিক থানা সহ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন এবং আওয়ামী লীগের রসানালে পড়ে সাতক্ষীরার কলারোয়াতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহর মামলায় ৭০ বছরের সাজা প্রাপ্ত হন। পাঁচ বছর জেলে থাকার পরে গত ৫ আগস্ট ছাত্রদের সমন্বয়ে আন্দোলনে তিনি জেল থেকে বাহির হন। অভিযোগ উঠেছে ৫ই আগস্ট এর পরে তার নির্বাচনী এলাকায় কিছু উশৃংখল নেতাদের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন লোককে মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা সহ ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীদের বাদ দেওয়ায় দলের ভিতরে ভিতরে গ্রুপিং এর কারণে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে এলাকার বিশিষ্টজনারা মনে করেন।

 

সাতক্ষীরা ০২ (সদর দেভাটা) এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুর রউফ ১৫০৬৬৯ ভোটে পরাজিত হন। দীর্ঘদিন বিএনপিতে বহিস্কৃত থাকা অবস্থায় আব্দুর রউফ কে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের ভিতরে ব্যাপক গ্রুপিং এর সৃষ্টি হয়। এবং এ প্রার্থীর নামে ভূমি দস্যু সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক অভিযোগ থাকায় এলাকার সচেতন মহল তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাছাড়া তিনি শিক্ষিত না হওয়ায় বিভিন্ন মঞ্চে গ্রামীণ ভাষায় বক্তব্য দেওয়ায় এলাকার শিক্ষিত সমাজ ও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। অভিযোগ উঠেছে তিনি নির্বাচনে বিভিন্ন নেতাদের মাধ্যমে ব্যাপক টাকা খরচ করলেও সেসব টাকা ত্যাগী কর্মীদের কাছে না পৌঁছানোই অনেক কর্মী মুখ ফিরিয়ে নিযেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এস এম মহসিন আলমগীর লেখেন, প্রার্থীর কাছ থেকে যেসব নেতারা কর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নিয়েছেন কোন কোন কর্মীর পেছনে স সব টাকা খরচ করেছেন তার হিসাব দেওয়ার জন্য। অপরদিকে এলাকার সুশীল সমাজ মনে করেন সাতক্ষীরা সদর আসনে জামায়াতের ঘাটি এখানে বিএনপি’র সৎ ও যোগ্য প্রার্থী না দেওয়ায় আসনটিতে বিপুল ভোটে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

 

সাতক্ষীরা ০৩ (আশাশুনি কালিগঞ্জ) এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গাজি আলাউদ্দিন ১২৭৪১১ ভোটে পরাজিত হন। অভিযোগ উঠেছে এ আসনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে মূল্যায়ন না করে হাই কমান্ড থেকে গাজী আলাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপকভাবে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়। এ আসনে সবার প্রিয় ডাক্তার শহীদুল্লাহ মাননীয় বঞ্চিত হওয়ায় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েন। এবং ডাক্তার শহিদুল্লাহ ধানের শীষের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রাপ্তি হাওয়াই স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা কর্মীরা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে তার পক্ষে কাজ করতে থাকে। এমনকি অনেক নেতাকর্মীকে এ কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের ধারণা এ আসনে সবার প্রিয় ব্যক্তি ডাক্তার শহিদুল্লাহ কে ধানের শীষন মনোনয়ন দিলে তিনি এ আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারতেন।

 

সাতক্ষীরা ৪ (শ্যামনগর) আসন এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো: মনিরুজ্জামান ২১৪৮৭ ভোটে পরাজিতহন।তিনি বয়সে তরুণ ও নতুন মুখ প্রবাসী হওয়ায় অনেকেই ভোট দেননি।তবে তিনি এলাকায় নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করে ফেলেছিেন।তবুও তিনি জামাতে প্রার্থীর কাছে ধরা সেই হয়ে গেলেন।

 

এদিকে এ বিষয়ে জানার জন্য সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশকে সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ডাবলু কে বারবার ফোন দিলে ও তারা ফোন রিসিভ করেননি। অপরদিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতাকরুজ্জামান এর কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু বলতে অপারগত প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদল এর সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী হোসেন বলেন দলের অন্তঃকোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সাতক্ষীরা জেলায় বিএনপির এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,সাতক্ষীরায় বিএনপি’র সাংগঠনিক ঐক্য ও বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখা সহ তৃণমূলের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে আগামী দিনে দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com