• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩
সর্বশেষ :
সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন, হাসপাতালের অনিয়ম তদন্তের দাবি সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার ‎পাইকগাছায় কাজের অভাবে নিম্নআয়ের মানুষ বিভিন্ন জেলার ইটভাটায় পাড়ি জমাচ্ছে তালায় ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার আসর, চ্যাম্পিয়নদের জন্য গরু ও ফ্রিজ পুরস্কার তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে সভা দেবহাটায় ঢাকাস্থ দেবহাটা সমিতির ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণা উদ্বোধন ইছামতীতে নেই সেই মিলনমেলা, শান্তিতেই শেষ দেবহাটার বিজয়া দশমী সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট, তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের নিয়ে চিকিৎসকের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ

দেবহাটার বনবিবির বটতলা – চারশো বছরের ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি / ৫৬৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বনবিবির বটতলা প্রায় চারশো বছরের পুরোনো একটি বিশাল বটগাছকে ঘিরে গড়ে ওঠা অনন্য ঐতিহ্যবাহী স্থান। সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ স্থানটি প্রকৃতি ও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়।

 

ইতিহাসের গভীরে
প্রায় সাড়ে তিন একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বটগাছটির ডালপালা মাটিতে নেমে নতুন শিকড় গেঁথে এক বিস্তৃত বৃক্ষছায়ার সৃষ্টি করেছে। সময়ের পরিক্রমায় এটি যেন এক প্রাকৃতিক অরণ্যে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রাচীনকালে এখানে সাধু-ঋষিরা ধ্যান করতেন এবং বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা-অর্চনা হতো। হিন্দু সম্প্রদায়ের নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানও দীর্ঘদিন ধরে এখানে পালিত হয়েছে।
লোককথায় প্রচলিত আছে, কেউ আন্তরিকভাবে বনবিবিকে স্মরণ করে মানত করলে তার মনোবাসনা পূর্ণ হতো। এ বিশ্বাস এখনও অনেকের মনে গভীরভাবে প্রোথিত।

 

বর্তমানের প্রাণকেন্দ্র
বর্তমানে এখানে আর সাধু-ঋষিদের ধ্যানচর্চা চোখে পড়ে না, তবে স্থানটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো বটতলা।

দেবহাটা উপজেলা পরিষদ-এর উদ্যোগে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয় এখানে। আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক পরিবেশনা এবং পান্তা-ইলিশের আয়োজন। ফলে ঐতিহ্য ও আনন্দের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় বনবিবির বটতলা।

 

সংরক্ষণের প্রয়োজন
তবে আশপাশে বসতি গড়ে ওঠায় ধীরে ধীরে বটতলাটি তার প্রাকৃতিক স্বকীয়তা কিছুটা হারাতে বসেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা না থাকলে ভবিষ্যতে এর ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। যথাযথ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগিতা পেলে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের জন্য রাজস্ব আয়ের নতুন উৎসও সৃষ্টি হতে পারে।

 

প্রকৃতির নীরব আহ্বান
ছায়াসুনিবিড় পরিবেশ, পাখির কূজন আর সবুজে ঘেরা শান্ত প্রকৃতি—সব মিলিয়ে এখানে কিছু সময় কাটালে মন থেকে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে দূরে অবসর দিনে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য এটি হতে পারে এক আদর্শ স্থান।

 

ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন হিসেবে দেবহাটার বনবিবির বটতলা আজও সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে—নীরবে, দৃঢ়ভাবে, ইতিহাসের পাতায় নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com