সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি সামিউল ইমাম আযম মনিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিক হোসাইনবিন আফতাব, আহাদ, জুবায়ের মাহমুদসহ অন্যরা জানান, সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুর, যুবদল নেতা মিজান, মতলেবসহ নেতাকর্মীরা শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব সামিউল আযম ইমাম মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদক চোরাচালানের অভিযোগ তোলা হয়। একপর্যায়ে মানববন্ধন চলাকালে আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুর, বাবলু, মিজান, মতলেবসহ প্রায় ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী প্রেসক্লাব ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
উপস্থিত সাংবাদিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদেরও ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা সভাপতিকে মারতে মারতে প্রেসক্লাব চত্বরের বাইরে নিয়ে গিয়ে ইট, হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকির সাংবাদিকদের জানান, “তার মাথার বাম পাশে শক্ত কিছু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, “তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে “যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতক্ষ নদের বালু লুট” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পর থেকে সভাপতি সামিউল মনির ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শ্যামনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা প্রেসক্লাবের মতো পেশাজীবী সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলার সচেতন মহল মনে করছে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
https://www.kaabait.com