• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২
সর্বশেষ :
দেবহাটার সখিপুরে শিশু যৌন পাচার ও শোষণ প্রতিরোধে সমন্বয় সভা না.গঞ্জ সদরে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কেশবপুরে গভীর রাতে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, সিমেন্ট-রড লুটের অভিযোগ শ্যামনগরে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুতে উত্তাল এলাকা কুশপুত্তলিকা দাহ শ্যামনগরে পাওনা টাকার দাবীতে আপন ভাইয়ের নামে মামলা শ্যামনগরে আসামি কর্তৃক মামলার বাদী শিক্ষিকাকে জীবন নাশের হুমকি, নিরাপত্তা হীনতায় পরিবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও অর্ধ সমাপ্ত প্রায় ৭ কোটি টাকার পৌর ভবন নির্মাণ প্রকল্প সাতক্ষীরার সেই আলোচিত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার পুরান ঢাকায় নবকুমার ইনস্টিটিউশনের ৮১ ব্যাচের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত দেবহাটায় সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

শ্যামনগরে ম*রা কাঁকড়ার দুর্গন্ধে অ*তিষ্ঠ এলাকাবাসী, জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

এস এম মিজানুর রহমান, শ্যামনগর প্রতিনিধি / ১৪৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দাঁতনাখালি নদীভাঙন চরে দীর্ঘদিন ধরে মরা কাঁকড়া ফেলে রাখার কারণে তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ না করা হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি মহামারির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এ অবস্থায় বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাঁতনাখালি গ্রামের নদীভাঙন এলাকায় কয়েকটি কাঁকড়া হ্যাচারির মালিক ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত মরা কাঁকড়া ফেলে স্তুপ তৈরি করছেন। ফলে আশপাশের এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা খালেকুল গাজী জানান, হ্যাচারির মালিকরা নদীভাঙন এলাকায় মরা কাঁকড়া ফেলায় ব্যাপক দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। পচে যাওয়া কাঁকড়ায় অসংখ্য পোকামাকড় জন্ম নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ দিয়ে চলাচলের সময় নাকে কাপড় না দিয়ে থাকা যায় না। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে বসবাস ও খাবার গ্রহণ করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে কিছু হ্যাচারি মালিক উল্টো তাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

 

আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, নদীতে যেকোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ হলেও কিছু হ্যাচারি মালিক প্রকাশ্যে মরা কাঁকড়া ফেলছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি শাহিন আলম বলেন, হ্যাচারির মরা কাঁকড়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হয়। কিন্তু তা না করে নদীর পাড়ে ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনস্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

এ বিষয়ে দাঁতনাখালি এলাকার হ্যাচারি মালিক জুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার হ্যাচারির কোনো মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে ফেলা হয় না। বরং এ ধরনের কাজ বন্ধে আমি একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও দিয়েছিলাম, যা দুর্বৃত্তরা ছিঁড়ে ফেলেছে। মূলত ছোট ছোট কিছু হ্যাচারি ব্যবসায়ী তাদের ঘেরের মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে ফেলে থাকে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দ্রুত মরা কাঁকড়ার স্তুপ অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে এলাকাবাসীও দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com