• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০
সর্বশেষ :
নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত সুন্দরবনে কাকড়া স্বীকার করে আসার সময় বনদস্যুদের গু*লিতে আহত জেলে সাতক্ষীরা সদর থানায় পুলিশ সুপারের পরিদর্শন, গার্ড অব অনার ও দিকনির্দেশনা প্রদান ঢাকার পল্লবী থেকে কু*খ্যা*ত স*ন্ত্রা*সী বাহার আলী গ্রেফতার প্রখর রোদ উপেক্ষা করে মাঠে দাঁড়িয়ে ডিজেল বিতরণ করলেন কৃষি কর্মকর্তা ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয়ে ফিলিং স্টেশনে তদারকি, নন্দীগ্রামে যুবক গ্রেপ্তার শিমুলবাড়ীয়ায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় দুইজনকে কু*পি*য়ে জ*খ*ম দেবহাটায় Basic Learner Exploration Exam 2026 অনুষ্ঠিত রাতভর পি*টি*য়ে সকালে উপড়ে ফে*লা হলো দুই চোখ না.গঞ্জে সদরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

ডুমুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মত আর চোখে পড়ে না

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা প্রতিনিধি  / ১৬৫২ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ৬ মে, ২০২৪
ঢেঁকি আগের মত আর চোখে পড়ে না

গ্রাম বাংলার তরুণী-নববধূ ও কৃষাণীদের কণ্ঠে ‘ও বউ চাল ভাঙে রে, ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, নতুন চাল ভাঙে হেলিয়া দুলিয়া, ও বউ চাল ভাঙে রে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া’ এ রকম গান আর শোনা যায় না। অগ্রহায়ন-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধানের নতুন চাল ভাঙা বা চাল গুঁড়া করা, আর সে চাল দিয়ে পিঠা, পুলি, ফিরনি, পায়েশ তৈরি করার ধুম পড়ে যায়। এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূজা’য় ঢেঁকিতে ধান ভাঙে আটা তৈরির সময় গ্রাম্যবধূরা গান গাইতে থাকেন। চারদিকে পড়ে যায় হৈ-চৈ। কালের বিবর্তণে ঢেঁকি এখন যেন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মত আর চোখে পড়ে না।

 

এক সময় ছিল ঢেঁকি গ্রাম জনপদে চাল ও চালের গুঁড়া-আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। বধূরা কাজ করতো গভীর রাত থেকে ভোর সকাল পর্যন্ত। এখন ঢেঁকির সেই ধুপধাপ শব্দ আর শুনা যায় না। বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়ায় ডুমুরিয়া উপজেলার ঢেঁকির শব্দ আর নেই। খুলনা জেলা’সহ উপজেলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে। ফলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ জনপদের কাঠের তৈরি ঢেঁকি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানেও ঢেঁকির ব্যবহার কমেছে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কেউ কেউ বাড়িতে ঢেঁকি রাখলেও তারা ব্যবহার করছে না। তবে আবার কেউ কেউ দরিদ্র নারীদের দিন মজুরী দিয়ে ঢেঁকিতে ধান-চাল বা আটা তৈরি করতে দেখা গেছে। সেখানে একটু হলেও ধুপধাপ শব্দ শোনা গেছে। ঢেঁকি শিল্প হলেও এ শিল্পকে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

 

আপনার মূল্যবান ভোটটি দিয়ে শাহ আলম টিটো’কে জয়-যুক্ত করুন

 

একসময় ঢেঁকি শিল্পের বেশ কদর ছিল। যখন মানুষ ঢেঁকিতে ধান ও চাল ভেঙে চিড়া-আটা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। তবে কৃষকের ঘরে এখন আর ঢেঁকি চোখে পড়ে না। তেল-বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল ভাঙার ফলে ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। সে সময়ে কবি সাহিত্যিকগণ ঢেঁকিকে নিয়ে অনেক কবিতা ও গান লিখেছেন। আর ঢেঁকিছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত পুষ্টিমান ও খেতে খুব স্বাদ লাগতো। বর্তমান প্রজন্ম সে স্বাদ থেকে বঞ্চিত। প্রাচীনকালে ঢেঁকির ব্যবহার বেশি হলেও বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে।

 

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার রানাই জামাল গ্রামের বাউল গায়ক জামাল বয়াতি জানান, ঢেঁকি কে নিয়ে বহু গান গেয়েছি। এখন ঢেঁকি নেই বহু গ্রামীণ গান আর গাওয়া হয় না। গোনালী গ্রামের নববধূ আসমা আকতার জানান, ধান ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে সে আটা’য় পিটা-পুলি ও পায়েশ তৈরি করে নতুন স্বামীকে খাওয়াবো কিন্তু কোথাও ঢেঁকির সন্ধ্যান পাচ্ছি না।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলায় ঢেঁকি’র ব্যবহার কমে গেছে। তবে ঢেঁকি আমাদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। সেজন্য এ ঢেঁকি শিল্প রক্ষায় সংরক্ষণের জন্য সকলের সহযোগিতা ও গণ সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com