• মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৮
সর্বশেষ :
নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রউফ সরদারের ইন্তেকাল আশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্ত সম্পন্ন জুলাই সংগ্রামের বার্তাবীর, সাতক্ষীরার গর্ব মাহিন দেবহাটায় পুলিশ সুপারের সঙ্গে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় মহম্মদপুরে শতবর্ষী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত মৃত শিশু গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাড়িয়ে : যে কোন মুহুর্তে প্রাণহানির শঙ্কা! প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ঢাকাস্থ কালিগঞ্জ আশাশুনিবাসীর সঙ্গে পরিবর্তনের অঙ্গীকারে ডা. শহিদুল আলমের মতবিনিময় দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ছেলের মতবিনিময় সরকারি কেবিএ কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক খোকনের বিদায় সংবর্ধনা সিলগালা শ্যামনগরের বেসরকারি আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক

জুলাই সংগ্রামের বার্তাবীর, সাতক্ষীরার গর্ব মাহিন

মো: আলাউদ্দিন / ১৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

জুলাইয়ের উত্তাল রাজপথ তখন বারুদের গন্ধে ভারী, আতঙ্ক আর প্রত্যয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লিখছিল একটি প্রজন্ম। সেই সময় কলম, ক্যামেরা আর মোবাইল ফোন হাতে যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনের বাস্তব চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন, তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সন্তান এইচ এম মাহিন। সাহসিকতা ও পেশাদার দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন “জুলাই বার্তাবীর সম্মাননা।

 

 

দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া বিভাগে কর্মরত সাংবাদিক মাহিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাঠপর্যায়ে থেকে আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণ করেন। সংঘর্ষ, প্রতিরোধ, শোক আর প্রতিবাদের যে নির্মম বাস্তবতা রাজপথে ছড়িয়ে ছিল, তা তিনি ক্যামেরার ফ্রেমে ও প্রতিবেদনের শব্দে তুলে ধরেন পাঠকের সামনে। তার কাজ শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল ইতিহাসের দলিল।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে ফেলানী হত্যা দিবসের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।

 

আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে এবং জাম (JAM) ও বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি)-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিকসহ প্রায় এক হাজার দুইশ’ জনের মধ্যে স্মারক ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত মোট ১০২ জন সাংবাদিককে ‘জুলাই বার্তাবীর সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।

 

সদস্য সচিব আলামিন আতিয়া ও ডাকসু সদস্য তাজিনুর রহমান এ-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তারেক আজিজ।

 

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী।

 

জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্যে রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবাহ।
সাতক্ষীরার মতো একটি সীমান্তবর্তী জেলা থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে এমন সম্মাননা পাওয়া মাহিনের জন্য যেমন ব্যক্তিগত অর্জন, তেমনি তা পুরো জেলার সাংবাদিক সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে যে ঝুঁকি, সাহস আর দায়বদ্ধতা তিনি দেখিয়েছেন, ‘জুলাই বার্তাবীর সম্মাননা’ তারই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

 

মাহিন আজ শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি জুলাই সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিলকার—যার কলম আর ক্যামেরায় ধরা আছে সময়ের সাহসী ইতিহাস।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com