• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭
সর্বশেষ :
দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা শ্যামনগরের গাবুরায় বনদস্যুদের সহযোগিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন সাংবাদিক শাহীন গোলদারের মায়ের মৃত্যুতে তালা প্রেসক্লাবের শোক তালায় মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে পেটাল মাদক কারবারিরা, থানায় জিডি সম্ভাবনা ও সংকটে দেবহাটা: পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের চোখে আগামীর প্রত্যাশা দেবহাটায় ৬৯৬ বোতল উইনকেরেক্সসহ নারী আটক, দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা শতবর্ষি কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দেবহাটায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পর্নে বিভিন্ন মন্দিরে ওসির পরিদর্শন সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে চ্যানেল আই এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ফেক ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি খুলে ছবি বিকৃতি ও ব্ল্যাকমেইলিং সাতক্ষীরায় থানায় জিডি

মনিরামপুরের রাজগঞ্জে ভাসমান সেতু দেখতে উপচে পড়া ভিড়

শেখ মাহাতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা / ৪৮৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

মনিরামপুরের রাজগঞ্জে ভাসমান সেতু দেখতে উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে। সরকারের অনুদান কিংবা প্রকৌশলীর সহযোগিতা ছাড়াই সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার মধ্যবর্তী মনিরামপুর থানাধীন ঝাঁপা বাওড়ে ৫৬ যুবক এবং গ্রামবাসীর উদ্দোগে নির্মিত হয়েছে ভাসমান সেতু। সেই সেতুটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলেও দেয়া হয়েছে। চলাচলের পাশাপাশি সেতুটি দেখতে গত কয়েকদিন হাজারো মানুষ প্রতিদিন সেখানে মিলিত হচ্ছেন।

 

খোজ নিয়ে জানা গেছে- ‘একতাই বল’ কথাটির প্রমাণ করেছেন যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাওড় বেষ্টিত ঝাঁপা গ্রামবাসী ও সেখানকার ৫৬ যুবকের দল। ‘দেশের প্রথম দীর্ঘতম ভাসমান সেতু’ নির্মাণের মধ্যে দিয়ে তারা জয় করেছেন ঝাঁপা বাওড়।

 

প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর নির্মিত হয়েছে ওই ভাসমান সেতুটি। একটি ড্রামের সাথে অপর ড্রামটি সংযোগ স্থাপন করে তার উপরে পাটাতন দিয়ে দীর্ঘ ওই সেতুটি নির্মান করা হয়েছে। দু’ধারে দেয়া হয়েছে দড়ির রেলিংও।

 

১৫-২০ হাজারেরও বেশি মানুষের দু:খ দুর্দশার কথা ভেবেই স্বেচ্ছাশ্রমে ৫৬জন যুবক ১০০০ ফুট ভাসমান সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেন৷ সেতুটি ভাসমান রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে প্লাষ্টিক ড্রাম। ১০০০ ফুট সেতুতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮৩৯ টি ড্রাম৷ যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য ড্রামের মুখে থ্রেট টেফ দিয়ে আটকানো হয়েছে৷ ফ্রেম তৈরি করা হয়েছে লোহার এঙ্গেল দিয়ে। ফ্রেমের দুই পাশে দু’সারি ড্রাম দিয়ে পানিতে ভাসান হয়েছে সেতু৷ সেতুতে এঙ্গেল ও পাত ব্যবহার হয়েছে ২০টন৷ পাটাতনের সিট ব্যবহার হয়েছে ১৩টন৷

 

এ পর্যন্ত ব্যায়ের হিসাব জানতে চাইলে উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান বলেন- সব মিলে খরচ প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ টাকা। পারাপারের বিষয়ে কোন টোল আদায় হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- আগের নিয়মই থাকবে, নৌকায় যেমন পারাপার হতো সেই হিসেবেই পারাপার হবে।

 

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাওড়ে নির্মিত বৃহত্তম ভাসমান সেতুটি গত ১৬জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৫টা ১০মিনিটে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মিলন মেলায় পরিনত হচ্ছে সেখানকার জনপদ। সেতুটি একনজর দেখার জন্য ভীড় জমাচ্ছেন ব্রিজের দু-পাশে।

 

কথা হয় ১৬গাধা মল্লিকপুর গ্রাম থেকে মেয়ের বাড়ী ঝাঁপা গ্রামে বেড়াতে আসা জনৈক রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির সাথে। তিনি বলেন- ঝাঁপা গ্রামে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি ২০বছর আগে। তখন পারাপার হতাম হাতে চালিত নৌকায়, তার অনেক বছর পর পারাপার হতাম ট্রলার নৌকায়। আজ ব্রিজ দিয়ে হেটে হেটে মেয়ের বাড়ী আসলাম৷ আর ঘাটে এসে নৌকার জন্য বসে থাকতে হবে না।

 

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মোঃ আজহারুল ইসলাম সরদার, সালেহা বেগম, প্রিয়া বেগম, ‌উৎস্য সরদারসহ আরো অনেকেই ডুমুরিয়া থেকে আসা দর্শনার্থী বলেন- অনলাইন পত্রিকা ও টিভিতে দেখে ফ্যামিলি নিয়ে এসেছি। ব্রিজ দেখে মনটা ভরে গেছে।

 

গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে এতবড় একটা কাজ করতে পেরেছেন সেই জন্য আমি উদ্যোক্তাসহ ঝাঁপা গ্রামবাসীকে সাধুবাদ জানাই।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com