• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬
সর্বশেষ :
বেতনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে দুকূল জুড়ে দর্শকের উপচে ভীড় ‎ দেবহাটার সখিপুরে শিশু যৌন পাচার ও শোষণ প্রতিরোধে সমন্বয় সভা না.গঞ্জ সদরে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কেশবপুরে গভীর রাতে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, সিমেন্ট-রড লুটের অভিযোগ শ্যামনগরে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুতে উত্তাল এলাকা কুশপুত্তলিকা দাহ শ্যামনগরে পাওনা টাকার দাবীতে আপন ভাইয়ের নামে মামলা শ্যামনগরে আসামি কর্তৃক মামলার বাদী শিক্ষিকাকে জীবন নাশের হুমকি, নিরাপত্তা হীনতায় পরিবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও অর্ধ সমাপ্ত প্রায় ৭ কোটি টাকার পৌর ভবন নির্মাণ প্রকল্প সাতক্ষীরার সেই আলোচিত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার পুরান ঢাকায় নবকুমার ইনস্টিটিউশনের ৮১ ব্যাচের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত

সুন্দরবনের গোলপাতা বহনে প্রস্তুত হচ্ছে পেটকাটা বড় নৌকা

ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, খুলনা / ২৩৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

সুন্দরবনের গোলপাতা আহরণ মৌসুম শুরু হওয়ায় বন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় পেটকাটা নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছে গোলপাতা ব্যবসায়ী ও বাওয়ালীরা। নদীপথে গোলপাতা বহন করতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের নৌকাকে স্থানীয়রা পেটকাটা নৌকা বলেন। এটি আকারে অনেক বড় এবং পেটের দিকে চওড়া থাকে। নৌকার মাধখানে কিছু অংশ কাটা থাকে গোলপাতা লোড-আনলোড করার জন্য। বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবন থেকে কাটা গোলপাতা এই নৌকাগুলোতে করে বহন করা হবে।

 

সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের নলিয়ান রেঞ্জের পাঁচটি স্টেশন এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এ নৌকা মেরামতের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। নলিয়ান রেঞ্জের সুতারখালী, কালাবগী, বানীয়াখালী, পাইকগাছা, হড্ডা, মৌখালী, বাশাখালী, গড়ইখালী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, জোড়শিং, কাশিয়াবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় পেটকাটা নৌকা মেরামত ও তৈরির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। গোলপাতা মৌসুম শুরু হওয়ায় পেটকাটা নৌকা মেরামত করা হচ্ছে। পাকগাছার শিববাড়িতে শিবসা নদীর চরে বড় নৌকা মেরামত করা হচ্ছে।

 

পাইকগাছা উপজেলা শীববাটি গ্রামের গোলপাতা ব্যাবসাহী ও বাওয়ালি বলেন, আমার বড় নৌকাটি ১০ বছর আগে তৈরি করা। এখন প্রতিবছর গোলপাতা আহরণের আগে মেরামত করা লাগে। এতে খরচ হয় প্রায় এক লাথ টাকা। আর নতুন একটি নৌকা নির্মাণে খরচ প্রায় ১০ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, গোলপাতা বহন করা নৌকাগুলো অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। এ কারণে গোলপাতার মৌসুম শেষ হলে নৌকাগুলো নদীর চরে ফেলে রাখতে হয়। যার কারণে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

 

দেখা যায়, শিবসা নদীর চরে পুরোনো বড় দুটি নৌকা মেরামতে ব্যস্ত মিস্ত্রি। একটি আতিয়ার রহমানের ও আরেকটি মাহাবুব রহমানের। বড় নৌকাগুলোতে শক্ত কাঠ দিয়ে বেঁধে নিচের পাটাতনে নতুন তক্তা বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো নৌকায় দেওয়া হচ্ছে আলকাতরার প্রলেপ।
নৌকা সংস্কারের কাঠ মিস্ত্রী আছাবুর বলেন, সারা বছরই নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজ করা হয়। গোলপাতা আহরণের সময় এলে বড় নৌকাগুলো মেরামতের কাজ হয় বেশি। বছরের অন্য সময় সুন্দরবনে জেলেদের নৌকা তৈরি ও মেরামতে ব্যস্ত থাকতে হয়। তিনি একটি বড় নৌকা মেরামতের ৩০ হাজার টাকা মুজুরি নিচ্ছেন।

 

বাওয়ালি আতিয়ার রহমার বলেন, এ বছর নৌকা মেরামতে খরচ বেশি হচ্ছে। ১৪ কেজির একটিন আলকাতরার দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা। একটি নৌকায় আলকাতরা লাগে প্রায় ১০ টিন। সে হিসাবে শুধু আলকাতরা কেনায় খরচ হয় ৩৫ হাজার টাকা। এরপর মিস্ত্রি, শ্রমিক, কাঠ ও লোহা কেনা খরচ তো আছে।

 

সুন্দরবন বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই ও পশ্চিম বনবিভাগের খুলনা-সাতক্ষীরার নির্দিষ্ট কুপ বা এলাকা থেকে গোলপাতা আহরণ করতে পারবেন। এবার প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন বা তার বেশি গোলপাতা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বনবিভাগের কাছ থেকে পাস বা পারমিট নিয়ে গোলপাতা কাটতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের বেশি গোলপাতা বহন করলে দ্বিগুণ জরিমানার নির্দেশনা রয়েছে। সুন্দরবনের গোলপাতা আহরণের মৌসুম ৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে যা ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৮ দিন ধরে চলবে। প্রতিবছর দুই দফায় মোট ৫৬ দিনের অনুমতি দেওয়া হতো। বন বিভাগ এবার সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাতে সময়সীমা কমিয়ে এক দফায় এই অনুমতি দিয়েছে।

 

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাতেই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত স্পট থেকে গোলপাতা আহরণ করা যাবে। প্রতিটি নৌকায় সর্বোচ্চ ১৮৬ কুইন্টাল বা ৫০০ মণ বহনের অনুমতি রয়েছে। গোলপাতা ছাড়া অন্য কোনো কাঠ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও তিনি জানান। নিরাপত্তার জন্য নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‍্যাব ও বন বিভাগের যৌথ টহল চলমান থাকবে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com