পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মধু আহরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করে নিরাপদ ও টেকসই বনাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, “বনদস্যুরা আমাদের সমাজেরই অংশ—আপনার-আমার আত্মীয়স্বজন। সম্মিলিত উদ্যোগে তাদের দমন করা সম্ভব। আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা অবশ্যই সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে পারব।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সুন্দরবনকে বিষমুক্ত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের একটি নিবন্ধন তালিকা তৈরি করা হবে। কেউ অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে তার সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হবে। পাশাপাশি বনজ সম্পদ যেমন গরান কাঠ ও গোলপাতা আহরণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি না থাকলে তাদের তালিকা প্রণয়ন করে ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) শ্যামনগর উপজেলার ৭১ নং বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মধু আহরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার, জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল এবং নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্যা পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ, সাবেক আহ্বায়ক সোলাইমান কবির, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাসুদুল আলম, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান। তিনি জানান, ২০২৬ সালে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১০০ কুইন্টাল এবং মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০০ কুইন্টাল।
পরিশেষে প্রতিমন্ত্রী এক মৌয়ালের হাতে পারমিট তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত
https://www.kaabait.com