দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম—জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে চলা এক সংগ্রামী মানুষ। মৃত বাহাদুর সরদারের পুত্র রেজাউল ইসলাম তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তার সংসার—আর সেই সংসারের একমাত্র ভরসা ইছামতি নদী।
প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি ছুটে যান নদীতে। হাতে থাকে একটি ছোট নেট জাল। নদীর পানিতে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে সংগ্রহ করেন বাগদা চিংড়ির পোনা (গুঁড়ো) ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ সম্পদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কখনো স্রোতের সঙ্গে লড়াই, কখনো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দাঁড়িয়ে থেকে তিনি চালিয়ে যান তার এই সংগ্রাম। প্রায় ৩০ বছর ধরে এভাবেই নদীর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
নদী থেকে সংগৃহীত এসব পোনা বাছাই করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন রেজাউল। কিন্তু এই সামান্য আয়ে খুব কষ্টে চলে তার সংসার। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাল ছাড়েননি তিনি। বড় ছেলে কলেজে পড়াশোনা করছে, আর মেয়ে স্কুলে। তাদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় তাকে।
নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রেজাউল ইসলাম। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, চোখে জমে ওঠে জল।
তিনি বলেন, “এই নদী ছাড়া আমাদের আর কোনো ভরসা নেই। যা পাই, তাই দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। ছেলেমেয়েদের মানুষ করার স্বপ্নটাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখছে।”
স্থানীয়রা জানান, রেজাউল ইসলামের মতো আরও অনেক পরিবার ইছামতি নদীর ওপর নির্ভরশীল। তবে দিন দিন নদীর অবস্থা খারাপ হওয়া ও পোনার প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় তাদের জীবন-জীবিকা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
https://www.kaabait.com