দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে উপকূলীয় জনপদ দেবহাটায় নেমে এসেছে তীব্র তাপদাহ। আকাশ যেন আগুন ঝরাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বইছে তপ্ত লু হাওয়া। প্রখর রোদ ও অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সূর্যের তীব্রতা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হলেও তীব্র গরমে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে কাজের ফাঁকে ছায়ার খোঁজে আশ্রয় নিচ্ছেন।
উপজেলার সখিপুর এলাকার রাজমিস্ত্রির শ্রমিক রবিউল ও শফিকুল, এবং কৃষি শ্রমিক রশিদ, ওসমান ও বাজ্জাক বলেন,
“এই গরমে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আল্লাহ যদি একটু গরম কমিয়ে দিতেন, তাহলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”
এদিকে তাপদাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। অনেক স্থানে নলকূপে পানি উঠছে না, ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা পরামর্শ দিয়েছেন—প্রচণ্ড রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া।
প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বৃষ্টিপাতের আশায় দিন গুনছেন দেবহাটার মানুষ।
https://www.kaabait.com