বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা তিন দিনের অবিরাম বর্ষণ এবং বৈরী আবহাওয়ায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও একটানা বৃষ্টিপাতে চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা ও কাঁচা রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পৌর সদরসহ বিভিন্ন বাজারের সড়কগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে চিরচেনা ব্যস্ত রাস্তাঘাট ও বাজারগুলো এখন অনেকটাই জনশূন্য।
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিক ও মৎস্যজীবীসহ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ।
বৃষ্টির কারণে বাইরে কোনো কাজ না থাকায় টানা তিন দিন ধরে পুরোপুরি বেকার বসে আছেন দিনমজুররা। রাস্তায় যাত্রী না থাকায় দিনভর ভিজেও কাঙ্ক্ষিত উপার্জনের দেখা মিলছে না ভ্যান চালকদের।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী ও মৎস্য ঘেরগুলোতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিক ইসলাম সরদার বলেন, একদিন কাজ না করলে ঘরে উনুন জ্বলে না, সেখানে টানা তিন দিন ধরে কোনো কাজ নেই। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। পৌর সদরের এক স্থানীয় ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় যাত্রী না থাকায় দিনভর ভিজেও কাঙ্ক্ষিত উপার্জনের দেখা মিলছে না। বাজারে অন্য দিনের মত লোক জন না আসায় আয় কম হচ্ছে।
মামুন কম্পিউটারের সত্বাধিকারী শেখ মামুনুর রশিদ বলেন হঠাৎ এই টানা বৃষ্টিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। উপজেলার কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতার সমাগম নেই বললেই চলে। বেচাকেনা বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া বৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু কিছু এলাকার আমন চাষী ও বীজতলার সামান্য ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আরও কয়েকদিন স্থায়ী হলে নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলোর কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
https://www.kaabait.com