• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০
সর্বশেষ :
তালায় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর দাফন, হ*ত্যার অভিযোগে মামলা স্বামীর নীরব ত্যাগ কতটা মূল্যায়িত হয়? দাম্পত্যে সম্মান ও ভালোবাসার প্রশ্ন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী জাকারিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, খুনিদের ফাঁসির দাবি শ্যামনগরে এসিল্যান্ডের প্রথম অভিযানেই চমক, অবৈধ বালুর বিরুদ্ধে অভিযান দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা শ্যামনগরের গাবুরায় বনদস্যুদের সহযোগিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন সাংবাদিক শাহীন গোলদারের মায়ের মৃত্যুতে তালা প্রেসক্লাবের শোক তালায় মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে পেটাল মাদক কারবারিরা, থানায় জিডি সম্ভাবনা ও সংকটে দেবহাটা: পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের চোখে আগামীর প্রত্যাশা দেবহাটায় ৬৯৬ বোতল উইনকেরেক্সসহ নারী আটক, দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা

স্বামীর নীরব ত্যাগ কতটা মূল্যায়িত হয়? দাম্পত্যে সম্মান ও ভালোবাসার প্রশ্ন

কেএম রেজাউল করিম, দেবহাটা সাতক্ষীরা / ২৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
Oplus_131072

সংসার নামের ছোট্ট পৃথিবীটাকে টিকিয়ে রাখতে একজন স্বামী দিনের পর দিন পরিশ্রম করেন। নিজের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন ও আরামকে অনেক সময় পেছনে রেখে পরিবারের প্রয়োজনকে সামনে রাখেন। স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নীরবে দায়িত্ব পালন করে যান। অথচ সেই মানুষটির ত্যাগ, কষ্ট ও অবদান অনেক সময় সবচেয়ে কাছের মানুষটির কাছেই যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না।

 

জীবনের ব্যস্ততায় একজন স্বামীর প্রতিদিনের পরিশ্রম যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে যায়। তিনি সকালে বের হন, সারাদিন কাজ করেন, ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফেরেন—কিন্তু তার ক্লান্তির গল্পটি অনেক সময় শোনা হয় না। সংসারের প্রয়োজনে নিজের অনেক ইচ্ছা বিসর্জন দিলেও সেই ত্যাগের স্বীকৃতি সবসময় মেলে না।

 

কথাটা কঠিন হলেও অনেকের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো—মরে না গেলে স্বামীরা স্ত্রীর কাছ থেকে পূর্ণ সম্মান পান না। অবশ্য সব দাম্পত্য সম্পর্ক এক নয়; অনেক স্ত্রীই স্বামীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে সংসার করেন। তবে কোথাও কোথাও স্বামীর নীরব অবদানকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

 

অথচ মানুষটি যখন হঠাৎ চলে যান, তখনই তার অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। ঘরের একটি চেয়ার, দরজার পাশে রাখা জুতা কিংবা প্রতিদিনের পরিচিত কণ্ঠ—সবকিছু তখন স্মৃতির অংশ হয়ে যায়। তখন মনে হয়, মানুষটি তো এতদিন কত কিছুই করেছেন! কত রাত জেগেছেন, কত দুশ্চিন্তা লুকিয়েছেন, কত অভাব নিজের মধ্যে রেখে পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়েছেন।

 

কিন্তু তখন আর তাকে একটি ধন্যবাদ দেওয়ার সুযোগ থাকে না। থাকে না তার ক্লান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বলার সুযোগ—“তুমি আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছো।”

 

একজন স্বামী শুধু সংসারের উপার্জনকারী নন; তিনি একজন মানুষ। তারও অভিমান আছে, কষ্ট আছে, ভালোবাসা পাওয়ার প্রয়োজন আছে। সারাদিন শক্ত থাকার চেষ্টা করলেও ঘরে ফিরে তিনি চান আপনজনের কাছ থেকে একটু সম্মান, একটু মমতা এবং কিছু আন্তরিক কথা।

 

তাই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে শুধু দায়িত্বের হিসাব দিয়ে দেখলে চলবে না। পারস্পরিক সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসাই একটি সংসারকে সুন্দর করে। মৃত্যুর পর আফসোস করার চেয়ে বেঁচে থাকতেই প্রিয় মানুষটির মূল্য বুঝতে শেখা জরুরি।

 

কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ সম্পদ নয়, ভালোবাসার স্মৃতি রেখে যায়। আর সেই ভালোবাসা প্রকাশ করার সবচেয়ে সুন্দর সময় হলো—মানুষটি যখন আপনার পাশেই আছেন।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com