• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩
সর্বশেষ :
সাতক্ষীরায় নদীকৃত্য দিবস পালিত দখল-দূষণমুক্ত জীবন্ত নদীর দাবি তালায় রেকর্ডীয় জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, ইউএনওর মাধ্যমে ডিসিকে স্মারকলিপ নগরঘাটায় ৮ দলীয় নকআউট হাডুডু টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাঁচপাড়া দল চ্যাম্পিয়ন সখিপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুদের মাঝে খেলাধুলার পোশাক বিতরণ কেশবপুরে ট্রাকের ধাক্কায় হাবিবের গাড়ি দুমড়েমুচড়ে, প্রাণে বাঁচলেন দেবহাটা উপজেলা প্রশাসন কাপ ফুটবলের ফাইনালে থানা একাদশের জয় জাতিসত্তার স্বর ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার শুভ জন্মদিবস না.গঞ্জ সদরে উন্নয়ন কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়নে এলজিইডির ম্যানেজমেন্ট সভা অনুষ্ঠিত পাটকেলঘাটায় দিনের বেলায় সেনাসদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, ১০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান: ওটি-প্যাথলজি সিলগালা, ম্যানেজারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

ডুমুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মত আর চোখে পড়ে না

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা প্রতিনিধি  / ২০৭৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ৬ মে, ২০২৪
ঢেঁকি আগের মত আর চোখে পড়ে না

গ্রাম বাংলার তরুণী-নববধূ ও কৃষাণীদের কণ্ঠে ‘ও বউ চাল ভাঙে রে, ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, নতুন চাল ভাঙে হেলিয়া দুলিয়া, ও বউ চাল ভাঙে রে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া’ এ রকম গান আর শোনা যায় না। অগ্রহায়ন-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধানের নতুন চাল ভাঙা বা চাল গুঁড়া করা, আর সে চাল দিয়ে পিঠা, পুলি, ফিরনি, পায়েশ তৈরি করার ধুম পড়ে যায়। এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূজা’য় ঢেঁকিতে ধান ভাঙে আটা তৈরির সময় গ্রাম্যবধূরা গান গাইতে থাকেন। চারদিকে পড়ে যায় হৈ-চৈ। কালের বিবর্তণে ঢেঁকি এখন যেন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মত আর চোখে পড়ে না।

 

এক সময় ছিল ঢেঁকি গ্রাম জনপদে চাল ও চালের গুঁড়া-আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। বধূরা কাজ করতো গভীর রাত থেকে ভোর সকাল পর্যন্ত। এখন ঢেঁকির সেই ধুপধাপ শব্দ আর শুনা যায় না। বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়ায় ডুমুরিয়া উপজেলার ঢেঁকির শব্দ আর নেই। খুলনা জেলা’সহ উপজেলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে। ফলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ জনপদের কাঠের তৈরি ঢেঁকি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানেও ঢেঁকির ব্যবহার কমেছে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কেউ কেউ বাড়িতে ঢেঁকি রাখলেও তারা ব্যবহার করছে না। তবে আবার কেউ কেউ দরিদ্র নারীদের দিন মজুরী দিয়ে ঢেঁকিতে ধান-চাল বা আটা তৈরি করতে দেখা গেছে। সেখানে একটু হলেও ধুপধাপ শব্দ শোনা গেছে। ঢেঁকি শিল্প হলেও এ শিল্পকে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

 

আপনার মূল্যবান ভোটটি দিয়ে শাহ আলম টিটো’কে জয়-যুক্ত করুন

 

একসময় ঢেঁকি শিল্পের বেশ কদর ছিল। যখন মানুষ ঢেঁকিতে ধান ও চাল ভেঙে চিড়া-আটা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। তবে কৃষকের ঘরে এখন আর ঢেঁকি চোখে পড়ে না। তেল-বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল ভাঙার ফলে ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। সে সময়ে কবি সাহিত্যিকগণ ঢেঁকিকে নিয়ে অনেক কবিতা ও গান লিখেছেন। আর ঢেঁকিছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত পুষ্টিমান ও খেতে খুব স্বাদ লাগতো। বর্তমান প্রজন্ম সে স্বাদ থেকে বঞ্চিত। প্রাচীনকালে ঢেঁকির ব্যবহার বেশি হলেও বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে।

 

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার রানাই জামাল গ্রামের বাউল গায়ক জামাল বয়াতি জানান, ঢেঁকি কে নিয়ে বহু গান গেয়েছি। এখন ঢেঁকি নেই বহু গ্রামীণ গান আর গাওয়া হয় না। গোনালী গ্রামের নববধূ আসমা আকতার জানান, ধান ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে সে আটা’য় পিটা-পুলি ও পায়েশ তৈরি করে নতুন স্বামীকে খাওয়াবো কিন্তু কোথাও ঢেঁকির সন্ধ্যান পাচ্ছি না।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলায় ঢেঁকি’র ব্যবহার কমে গেছে। তবে ঢেঁকি আমাদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। সেজন্য এ ঢেঁকি শিল্প রক্ষায় সংরক্ষণের জন্য সকলের সহযোগিতা ও গণ সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com