• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১
সর্বশেষ :
সাংবাদিক আব্দুল মতিন হাসপাতালে ভর্তি, সকলের কাছে দোয়া কামনা এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এমদাদুল হকের দোয়া কামনা এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনায় আলহাজ্ব মাঈন উদ্দিন ময়নার শুভেচ্ছা নগরঘাটায় নতুন সড়ক নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব আশাশুনিতে মোবাইল কোর্ট : ১৩ লক্ষ টাকার বাগদা বিনষ্ট নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা গঠনের সিদ্ধান্ত বিলুপ্তপ্রায় কালিম পাখি পোষ মানিয়ে সফল ডুমুরিয়ার চুকনগরের মৎস্য ব্যবসায়ী! তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত না.গঞ্জ সদরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ নীলডুমুর বাজারে হার্ডওয়্যার দোকান থেকে অজগর উদ্ধার

আশাশুনিতে আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভদ্রকান্ত সরকারের সফলতার গল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি / ২১৮ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের ঝাটিকাটা গ্রামের ভদ্রকান্ত সরকার ছোটবেলা থেকেই মাছ চাষে আগ্রহী ছিলেন। জমি ছিল, পরিশ্রম করার মানসিকতা ছিল, স্বপ্নও ছিল—কিন্তু ঘাটতি ছিল সঠিক পদ্ধতি আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের। তাই যতই চেষ্টা করতেন, ঘেরে মাছ ঠিকমতো বাঁচত না। কখনো অক্সিজেন কমে যেত, কখনো রোগ দেখা দিত, আবার কখনো উৎপাদন খরচই উঠত না। একসময় মনে হচ্ছিল, মাছ চাষ হয়তো তার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

এই কঠিন সময়েই সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) এর R.M.T.P প্রকল্প এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ইফাদ ও ড্যানিডার অর্থায়নে তিনি আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ পান। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি পান ৫০ হাজার টাকার অনুদান। সেখান থেকেই তার জীবনে শুরু হয় সত্যিকারের পরিবর্তন।

 

অনুদানের টাকা দিয়ে তিনি একটি এয়ারেটর মেশিন কিনলেন—যা ঘেরে নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং মাছকে রোগ-ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

 

এয়ারেটর চালুর পর ফলাফল দেখতে সময় লাগেনি। যে ঘেরে আগে মাছ টিকে থাকতে পারত না, সেই ঘেরের পানি এখন স্বচ্ছ, মাছগুলো আরও চঞ্চল, আর বৃদ্ধিও দ্রুত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার ঘেরের অবস্থা পুরোপুরি বদলে যায়।

 

আগে যেখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা লাভ পেতেন, এখন একই জায়গায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ২০ হাজার টাকার বেশি লাভ করতে পারেন। শুধু লাভই বাড়েনি—মাছের মৃত্যু কমেছে, খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এসেছে আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

 

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তার আত্মবিশ্বাসে। যে মানুষটি কখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তিনি এখন ঘের বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন, নতুন প্রযুক্তি শেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, আর পরিবারকে আরও নিরাপদ জীবন দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

 

ভদ্রকান্ত সরকার বলেন— “সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা সাসের R.M.T.P প্রকল্প এবং পিকেএসএফ, ইফাদ ও ড্যানিডা আমাকে শুধু অনুদান দেয়নি, দিয়েছে এগিয়ে যাওয়ার পথ। এই সহায়তা আমি কখনো ভুলব না।”

 

এখন তার সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। যারা ঘেরপাড় দিয়ে হাঁটেন, সবাই তার গল্প শোনেন। গ্রামের অন্য চাষিরা তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি এখন তাদেরও উৎসাহ দেন।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com