মফস্বলে সাংবাদিকতা এখন আর আগের মতো সম্মানের পেশা নয়। শুধু নামে নয়, চোখের ভাষাতেও তার প্রমাণ মেলে। পরিচয় বললেই কারও মুখে অনুচ্চারিত গালি, কারও ঠোঁটে সন্দেহ, কারও চোখে ভয়। আবার কেউ আসে, শুধুই ব্যবহার করার জন্য।
বাইরে মানুষের ধারণা ভিন্ন। তারা ভাবে এই পেশায় আয় অগণিত, টাকার হিসাব রাখা যায় না। অথচ ঘরের দরজা বন্ধ হলে শুধু পরিবারই জানে, কতটা শূন্যতা নিয়ে একটি দিন শেষ হয়।
নুন আনতে গিয়ে পান্তা ফুরানোর বাস্তবতায়ও নিজেকে ভাঙতে নেই। ইস্ত্রি করা শার্ট, পালিশ করা জুতো, এক ধরনের মিথ্যা আভিজাত্যের খোলস গায়ে চাপিয়ে বেরোতে হয় প্রতিদিন। ফেরা হয় খালি হাতে, ভারী মাথা আর ক্লান্ত শরীর নিয়ে।
শোনা যায়, কেউ কেউ এই পেশাকে সিঁড়ি বানিয়েছে ক্ষমতার ঘরে ওঠার জন্য। বাস্তবেও দেখা যায়, চাঁদাবাজি, দালালি, চাটুকারি আর দলবাজি কীভাবে পুরস্কৃত হয়। কিন্তু সবাই তো নিজের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলতে পারে না।
যারা সততার পথে হাঁটে, তারা আসলে আটকে থাকে এক স্বপ্নহীন খাঁচায়। এখানে পছন্দের জায়গা নেই, আছে শুধু দায়বদ্ধতার শেকল। এই বয়সে এসে বিকল্প ভাবাও বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়। পনেরো বছর ধরে এই পেশাই পরিচয়, ছাড়ার সাহস নেই। সামনে দাঁড়িয়ে থাকে ক্ষুধা।
মাঝে মাঝে মনে হয়, আর থাকার শক্তি নেই। তবু হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো জায়গায়ও পৌঁছাইনি। আমি ক্লান্ত, কিন্তু পরাজিত নই। আঘাতপ্রাপ্ত, কিন্তু ভেঙে পড়িনি।
এই পেশা কোনো অভিশাপ নয়। আমি নিজে একে ধারণ করি, সম্মান করি। সমস্যা পেশায় নয়, সমস্যা চারপাশে জমে থাকা বিকৃতি, অবহেলা আর দীর্ঘদিনের উপেক্ষায়।
এই পেশা মানুষকে সত্য বলার সাহস শেখায়। কিন্তু সেই সত্যের দাম দিতে কেউ চায় না। যদি সম্মানহীনতা, নিরাপত্তাহীনতা আর অনিশ্চয়তার এই বোঝাগুলো একটু নামিয়ে দেওয়া যেত, তাহলে মফস্বলের সাংবাদিকতার টিকে থাকা অসম্ভব হতো না।
**সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল**
https://www.kaabait.com