• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৩
সর্বশেষ :
কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না : ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ শ্যামনগরের জহিরনগর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ খলিশাখালীর চরে সুপেয় পানির সংকট, ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবি সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে জেলা জাতীয় পার্টির শোক দেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত, বাস আটক অবৈধ নেটপাটা উচ্ছেদ ও নদী খালের প্রবাহ ফেরাতে ডুমুরিয়ায় তৎপরতা দেবহাটার ভাতশালা গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সচেতনতা সভা ও গাছের চারা বিতরণ উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে দায়িত্ব হারালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন উপলক্ষে শ্যামনগরে র‍্যালি ও দোয় অনুষ্ঠিত নগরঘাটায় ৭ লাখ টাকার ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কাকে বলে? কারা হচ্ছেন?

ডেস্ক / ৪৬৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি। নতুন এমপিরা ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিকেলে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা।

 

৪৯ সদস্যের এ মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। এর মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় দুজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে।

 

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কাকে বলে?

টেকনোক্র্যাট বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা বা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। তারা সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য না হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

সংবিধানের ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অনধিক এক-দশমাংশ সদস্য সংসদ সদস্য নন—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে তাদের সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীই মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের মনোনীত করেন। তবে তাকে নির্বাচিত এমপিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার ১০ ভাগের ৯ ভাগ সদস্য রাখতেই হবে। বাকি এক ভাগ তিনি চাইলে টেকনোক্র্যাট সদস্য রাখতে পারেন।

 

নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিন আগে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হয়।

 

নতুন মন্ত্রিসভায় কারা হচ্ছেন টেকনোক্যাট মন্ত্রী? 

নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হচ্ছেন হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন ও ড. খলিলুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী করা হচ্ছে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে।

 

আমিনুর রশীদ ইয়াছিন

হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে এ আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

 

ড. খলিলুর রহমান

ড. খলিলুর রহমান ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে ১৯৮৩-৮৫ সময়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বদলি হন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে যোগ দেন।

 

আমিনুল হক

সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কিংবা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার নজির নেই। আমিনুল হকই প্রথম।

স্বাধীনতার পর সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজ প্রথম মন্ত্রীত্ব পান। পরে আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন। আমিনুল হক তৃতীয় সাবেক জাতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রীপরিষদে যুক্ত হতে যাচ্ছেন।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com