• বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৭
সর্বশেষ :
তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর ঘরে ফিরতে ‘বলির পাঠা’ দ্বিতীয় স্বামী কালিগঞ্জ কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হা*মলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূগর্ভ থেকে অ*বৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনি শ্যামনগরে জলবায়ু সংকট ও স্থানীয় অভিযোজন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত ব্রহ্মরাজপুর সাহা পাড়ায় রাতের আধারে অগ্নি সংযোগ: অল্পের জন্য রক্ষা পেল একটি পরিবার পাটকেলঘাটায় মাদকাসক্ত পুত্রকে ত্যাজ্য করলেন পিতা শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির ওপর হা*ম*লা, সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ নগরঘাটায় ইউনিয়ন বিএনপি অফিসে অ*গ্নি*কা*ণ্ড দেবহাটায় র‍্যাবের অভিযানে ১ হাজার বোতল কোরেক্স-ফেন্সিডিলসহ আ*ট*ক ৩

তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর ঘরে ফিরতে ‘বলির পাঠা’ দ্বিতীয় স্বামী

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৫০ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
আলামিন ও ইতি খাতুনের বিয়ের ছবি।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের সেনেরগাতি গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর পারিবারিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে পুনরায় প্রথম স্বামীর ঘরে ফেরাতে দ্বিতীয় স্বামীকে ‘বলির পাঠা’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনেরগাতি গ্রামের মৃত ইয়াকুব দফাদারের প্রবাসী বড় ছেলে নুরুল ইসলাম ওরফে আলামিন মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ি শেখপুরা গ্রামের বাসিন্দা আমিনুর সরদারের বড় মেয়ে ইতি খাতুনকে বিয়ে করেন। ইতির আগের স্বামীর সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে তালাক হয় বলে জানা গেছে।

 

 

বিয়ের পর কয়েক মাস আলামিন ও ইতির সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে প্রবাসে থাকা প্রথম স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। আলামিনের অভিযোগ, স্ত্রীর মা ইয়াসমিন, বাবা আমিনুর সরদার ও মামা মোকাম এ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

 

এদিকে সরেজমিনে সাগরদাড়ি এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রথম স্বামী প্রবাসী হায়দারের কাছ থেকে দফায় দফায় স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নেওয়া হয় এবং সেই অর্থের বিপরীতে জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। তালাকের পরও ওই অর্থ বা স্বর্ণ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই অর্থ পরিশোধ না করে পুনরায় আগের স্বামীর সঙ্গে সংসার করার পথ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে ইতি খাতুনকে ‘হিল্লা বিয়ে’ দেওয়ার ছক কষা হয় এবং এ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় স্বামী আলামিনকে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

 

এবিষয়ে ভুক্তভোগী স্বামী আলামিন বলেন, ব্যবসায়িক কাজে আলামিন ঢাকায় অবস্থানকালে আমার স্ত্রী ইতি খাতুন ঘরে থাকা নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা ও ১২ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চলে যান। পরে ডাকযোগে তালাকনামা পাঠানো হয় আমার ঠিকানায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, এঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা শালিশ বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয়নি। নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত না পাওয়ায় আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে ব্যবহার করে পুনরায় আগের স্বামীর সঙ্গে সংসার করার পথ সুগম করা হয়েছে। আর এই ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের প্রধান কারিগর আমার শাশুড়ি-শশুর ও মামাশশুর। আমি সবার সঠিক বিচার চাই।

 

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে শশুর আমিনুর সরদার বলেন, সংসারে অশান্তির কারণে মেয়ে আমার বাড়ি থেকে আগের স্বামীর ঘরে চলে গিয়েছে। তবে তালাক দেওয়ার ৯০ দিন পূর্ণ না করে নিয়ম বহিঃভূতভাবে কিভাবে প্রথম স্বামীর ঘরে গেল এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

 

 

স্থানীর ওয়ার্ড সদস্য বাবু শালিসে বলেন, জীবনে অনেক শালিশ বিচার করেছি কিন্তু এমন আজব ঘটনার স্বাক্ষী প্রথম হলাম। তালস্কের তারিখ হতে ৩মাস পূর্ণ না হলে অন্য কোথাও বিবাহ ইসলামী শরিয়তের বিরুদ্ধে।

 

বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।

 

এঘটনা শেখপুরা গ্রামের মানুষের মধ্যে মুখরোচক গল্পের খোরাক জুগিয়েছে। তবে আগামী ওই এলাকায় নতুন আত্বীয়তার ব্যপারে অন্য এলাকার মানুষ কেমন সাড়া দিবে সেটাও ভাবার বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com