• সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৮
সর্বশেষ :
ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সাতক্ষীরায় সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা শ্যামনগরে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক আলোচনা সভা নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত কালিগঞ্জে দিনদুপুরে ছি*নতাই: বিকাশ এজেন্ট গুরুতর আহত, এলাকায় আ*তঙ্ক দেবহাটায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা ডুমুরিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার ইটাগাছা এলাকা থেকে ২ হাজার বোতল ফেন্সিডিলসহ ট্রাক আটক, হেলপার গ্রেপ্তার ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদ টু ফয়জুল্যাপুর মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা তেল-গ্যাসে কৃত্রিম সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি; সিন্ডিকেটের কবলে ক্রেতারা জ্বালানি তেল পা*চাররোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি

ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সাতক্ষীরায় সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা

আব্দুল মোমিন / ৩৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

সূর্যমুখী ফুল চাষ করে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে বিস্তীর্ণ হলুদ রঙের সমারোহ। দূর থেকে মনে হয় যেন প্রকৃতির বুকে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে হলুদ গালিচা। কাছে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল বাতাসে দুলছে।

 

কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় উপকূলীয় এই অঞ্চলে কৃষকেরা এবার দ্বিগুণ হারে সূর্যমুখী চাষ বাড়িয়েছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় মোট ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১০৯ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর।

 

উপজেলা ভিত্তিক আবাদ হলো— তালায় ৬৩ হেক্টর, শ্যামনগরে ৬০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৩৪ হেক্টর, সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় ২২ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৫ হেক্টর এবং দেবহাটায় ৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। কম খরচ, স্বল্প সময় এবং সরকারি প্রণোদনা—এই তিন কারণে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

 

কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী তেল হৃদরোগের ঝুঁকি ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক এবং রান্নার স্বাদ বাড়ায়। ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী চাষ এখন জেলার কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক কৃষক অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

 

কৃষকদের ভাষ্য, সূর্যমুখী ফুল এখন শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি তাদের আয়েরও একটি বড় উৎস। উপকূলীয় নিচু জমিতেও সূর্যমুখী চাষে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

তালা উপজেলার কৃষক তৌহিদুল ইসলাম জানান, সূর্যমুখী চাষের মূল লক্ষ্য তেল উৎপাদন। প্রতি বিঘা জমিতে সাত থেকে দশ মণ পর্যন্ত বীজ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে প্রায় আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৬০ থেকে ২২০ লিটার তেল পাওয়া যেতে পারে। বর্তমানে প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় চাষ করতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকা। তেল ছাড়াও বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

 

পাটকেলঘাটা কুমিরা গ্রামের কৃষক রহিম শেখ বলেন, “প্রথমবারের মতো আমি এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। সূর্যমুখীর তেল দিয়ে স্থানীয়ভাবে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি তেল বাজারে বিক্রি করতে পারছি।”

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যমুখী ক্ষেতগুলো এখন বিনোদনের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। হলুদ-সবুজে মোড়া বাগানের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তরুণ-তরুণী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা ছবি তুলতে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন এসব বাগানে। ফুলের মধু সংগ্রহে মৌমাছির ভনভন শব্দে মুখর হয়ে উঠছে ক্ষেত।
কোথাও কোথাও সূর্যমুখী ক্ষেতকে ঘিরে ছোট ছোট দোকানও গড়ে উঠেছে।

 

ঘুরতে আসা একটি ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও আদিয়ান এগ্রো সাতক্ষীরা রেঞ্জের সিনিয়র ম্যানেজার মাসুম হোসেন বলেন, “রাস্তার পাশে সূর্যমুখীর ক্ষেত দেখতে খুব ভালো লাগে। সারাদিন কাজের পর সময় পেলেই এখানে চলে আসি। মন ভালো হয়ে যায়। ফুলের সঙ্গে অনেক ছবি তুলি।”

 

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি বিভাগের সঠিক মনিটরিং, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা হলে সূর্যমুখী চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে সাতক্ষীরাসহ দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com