• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০
সর্বশেষ :
শেখ হাসিনার বাসভবন থেকে মরদেহ উদ্ধার গাজী নজরুল এমপির অপসারণের দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত দেবহাটায় যুগ্ম সচিব আবুল হাসানের পিতার জানাজা সম্পন্ন, কাছে দোয়া কামনা ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস মঈন উদ্দিন ময়নার সুন্দরবন বনজীবীদের জীবনযুদ্ধ; কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাবই নিত্যসঙ্গী শ্রাবণের ভারী বর্ষণে পাইকগাছার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত; বেড়েছে জনদূর্ভোগ গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর গাজী নজরুলের ভিডিও বি*তর্কের জেরে শ্যামনগরে জামায়াত নেতার পদত্যাগ, এক মণ দুধ দিয়ে গোসল শ্যামনগরে র‍্যাবের অভিযান: চুনা নদীতে নোঙ্গর করা নৌকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ, আটক- ২ গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদে থাকা নিয়ে যা জানাল

ইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউল ইসলামের জীবন যুদ্ধ

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি / ২০৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
Oplus_131072

দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম—জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে চলা এক সংগ্রামী মানুষ। মৃত বাহাদুর সরদারের পুত্র রেজাউল ইসলাম তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তার সংসার—আর সেই সংসারের একমাত্র ভরসা ইছামতি নদী।

 

প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি ছুটে যান নদীতে। হাতে থাকে একটি ছোট নেট জাল। নদীর পানিতে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে সংগ্রহ করেন বাগদা চিংড়ির পোনা (গুঁড়ো) ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ সম্পদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কখনো স্রোতের সঙ্গে লড়াই, কখনো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দাঁড়িয়ে থেকে তিনি চালিয়ে যান তার এই সংগ্রাম। প্রায় ৩০ বছর ধরে এভাবেই নদীর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

 

নদী থেকে সংগৃহীত এসব পোনা বাছাই করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন রেজাউল। কিন্তু এই সামান্য আয়ে খুব কষ্টে চলে তার সংসার। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাল ছাড়েননি তিনি। বড় ছেলে কলেজে পড়াশোনা করছে, আর মেয়ে স্কুলে। তাদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় তাকে।

 

নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রেজাউল ইসলাম। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, চোখে জমে ওঠে জল।

 

তিনি বলেন, “এই নদী ছাড়া আমাদের আর কোনো ভরসা নেই। যা পাই, তাই দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। ছেলেমেয়েদের মানুষ করার স্বপ্নটাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখছে।”
স্থানীয়রা জানান, রেজাউল ইসলামের মতো আরও অনেক পরিবার ইছামতি নদীর ওপর নির্ভরশীল। তবে দিন দিন নদীর অবস্থা খারাপ হওয়া ও পোনার প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় তাদের জীবন-জীবিকা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com