দেবহাটা উপজেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদকের বিস্তার। বিশেষ করে অল্প বয়সী কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকের আসক্তি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এর নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়ছে বলে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহল মনে করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সহজলভ্যতা, অসৎ সঙ্গ, পারিবারিক অসচেতনতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে অনেক কিশোর ও যুবক মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় তরুণ সমাজের একটি অংশ ধীরে ধীরে বিপথগামী হয়ে পড়ছে।
গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর কিছু অসাধু চক্রের মাধ্যমে গোপনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের ভয়াল ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে। মাদকের কারণে পারিবারিক কলহ, চুরি, ছিনতাই, মারামারি এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
দেবহাটার বিভিন্ন গ্রামের অভিভাবকরা জানান, আগের তুলনায় কিশোরদের মধ্যে মাদকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। অনেকেই বন্ধুদের প্ররোচনায় প্রথমে নেশায় জড়িয়ে পড়ে, পরে তা আসক্তিতে রূপ নেয়। ফলে লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়া, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অল্প বয়সীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব।
স্থানীয়দের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব দেবহাটার গ্রামাঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
https://www.kaabait.com