বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস ভিত্তিক আগাম সাড়াদান কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দুর্যোগ প্রতিক্রিয়াশীলকরণ কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটি সুশীলনের বাস্তবায়নে এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুশীলনের উপজেলা সমন্বয়কারী (শ্যামনগর, আশাশুনি ) নিখিল রঞ্জন । তার ভাষ্য, ২০২৩ সাল থেকে শ্যামনগর উপজেলার , কৈখালী,বুড়িগোয়ালিনী, পদ্মপুকুর ও গাবুরা ইউনিয়নে সুশীলন কাজ করছে। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় পরিবারকে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে পুনরায় প্রতিটি ইউনিয়নে ১২ জন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এজন্য প্রকল্পের আওতায় পূর্ব প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সভার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় বক্তৃতা করেন শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তা ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে সুশীলনকে ভালো কাজ করতে দেখেছি। শ্যামনগর উপজেলায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও চরম নাজুক। সুশীলন দারুণভাবে রাস্তা সংস্কার করেন।বেড়িবাঁধ ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে দ্রুত বড় প্রকল্প গ্রহণ করে শ্যামনগর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শ্যামনগর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। প্রায় প্রতি বছরই দুর্যোগে এ অঞ্চলের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুশীলন অতীতেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। ভবিষ্যতেও তারা আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ শহিদুল রহমান।
https://www.kaabait.com