• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩
সর্বশেষ :
আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকবো: গু*লিতে নি*হ*ত সেনাসদস্যের স্ত্রী মাগুরায় প্রাচীন ঐতিহ্য লাঠি খেলা দেখতে নারী পুরুষের উপচে পড়া ভিড় মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ওসি শাহিদুর রহমানের এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দৈনিক সাতক্ষীরা খবর পত্রিকার শুভ উদ্বোধন দেবহাটায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন ২ এর শুভ উদ্বোধন পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন: ইসি’র নতুন রোডম্যাপ ও মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রে*ফ*তারি পরোয়ানা প্রথম আলোর সেরা প্রতিনিধি নির্বাচিত হ‌লেন ইমতিয়াজ, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের অভিনন্দন তালায় ডেইরি ব্যবসায়ীকে ধারালো অ*স্ত্র দিয়ে কু*পিয়ে জ*খম, ২৭ হাজার টাকা ছি*নতা*ইয়ের অভিযোগ

আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকবো: গু*লিতে নি*হ*ত সেনাসদস্যের স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক / ১৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

সেনাবাহিনী পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন কক্সবাজারের টেকনাফে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং ছোট ভাইও সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তার এমন মৃত্যুতে মা রেখা বেগমের আহাজারীতে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বামীকে হারিয়ে। ছেলেকে হারিয়ে বাবা আফজাল শেখের মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। বাকরুদ্ধ হয়ে শুধুই ঝরছে চোখের পানি।

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য। নিহত তিতাস শেখ দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি সেনাবাহিনীর ১-বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। চার বছর সংসারে নেই সন্তান। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে কর্মস্থলে নেওয়ার কথা ছিল তিতাস শেখের। কিন্তু একটি বুলেট তাকে থামিয়ে দিলো তার পথচলা।

 

স্বামীকে হারিয়ে বিলাপ করে সুমাইয়া কাঁদছেন আর বলছেন, ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকবো! আমার কোনও অস্তিত্ব রইলো না! আল্লাহ, আমি এখন কী করবো।’

 

অপরদিকে শোকে পাগলপ্রায় মা রেখা বেগমও। তার ভাষ্য, গত বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিতাস তখন বলেছিল, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকালে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাবো, দোয়া কইরো মা।’

 

কিন্তু তার এমন কথা ছিল শেষ কথা- তা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেনি মা রেখা বেগম। সন্তানের নিহতের খবর পাওয়ার পর থেকে শুধুই বিলাপ করে যাচ্ছেন।

 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।

 

পরে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

তার লাশ রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। লাশ আনতে সেখানে ছুটে গিয়েছেন ছোট ভাই সেনাসদস্য আকরাম হোসেন।

 

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারযোগে লাশটি বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে পৌঁছাবে বলে সেনাবাহিনী আমাদের জানিয়েছেন। পরে গ্রামের বাড়িতে বিকাল ৪টার মধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গার্ড অব অনারসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। এরপর পারিবারিক সিদ্ধান্তে দাফন করা হবে।’


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com