সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে এক কৃষকের তরমুজ ক্ষেত লন্ডভন্ড করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা তরমুজের চারা উপড়ে ফেলে ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আমিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের একজন নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সংসারের খরচ চালাতে তিনি দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার ক্ষেতে ঢুকে সারিবদ্ধভাবে লাগানো তরমুজের চারাগাছ উপড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়। সোমবার সকালে জমিতে গিয়ে তিনি দেখেন, পুরো ক্ষেতজুড়ে চারাগাছ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। আশপাশের জমিতে তরমুজের চারা অক্ষত থাকলেও কেবল তার ক্ষেতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের দাবি, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছেন।
আমিন আলীর পরিবারের সদস্য মোমিন আলী বলেন, তার ভাই দিনমজুর মানুষ। খেটে খাওয়া একজন কৃষকের সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আমিন আলী বলেন, স্থানীয়ভাবে তার কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তার ফসল নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিন আলীর স্ত্রী বলেন, সারা বছরের অবলম্বন ছিল এই তরমুজ ক্ষেত। যারা তাদের উপার্জনের পথ নষ্ট করেছে, তাদের বিচার দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসী জানান, আমিন আলী স্থানীয় মক্তবে পাঠদান করেন এবং মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষিকাজই তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। স্থানীয়ভাবে তার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন তারা।
ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
https://www.kaabait.com