• শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৮
সর্বশেষ :
‎কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবাগত চিকিৎসকের যোগদান, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতি “নামাজ মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে, রোজা শেখায় তাকওয়া” — এমপি ইজ্জত উল্লাহ খুলনায় ভোক্তা-অধিকার অভিযানে ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা বালিথায় ২সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও সাংবাদিকের বাড়িতে চুরি! শ্যামনগরে পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং শারিরীক সম্পর্কের পর নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া মামলা করে বিপাকে নারী জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ রাত ৯:৪৫-এ তালায় জাতীয় পার্টির নেতা এস এম নজরুল ইসলাম স্বপদে বহাল ভালুকা চাঁদপুরে প্রতিপক্ষের সীমানার কাটাতারের ঘেরা ও গাছ কেটে পাকা স্থাপনা তৈরির চেষ্টা দেবহাটায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা

‎কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবাগত চিকিৎসকের যোগদান, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতি

জিএম রিয়াজুল আকবর, ‎বিশেষ প্রতিনিধি / ৩৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর এলো উপকূলীয় কয়রা উপজেলায়। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ ৭জন নবাগত চিকিৎসক যোগদান করেছেন।

 

‎নবাগত চিকিৎসকদের স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে নবাগতদের বরণ ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য, ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. হিরন্ময় ঢালী।


‎উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল করিম জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছিল। ৪৮ তম বিসিএস এর মাধ্যমে নতুন ৭জন চিকিৎসক যোগদান করায় বর্তমানে সেবা প্রদান করা সহজ ভাবে সম্ভব হবে, যা বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসা সেবা সহজতর ও বেগবান করবে।


‎৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে যোগদানকারী চিকিৎসকরা হলেন ডা. মোহসিনা সাকিব, ডা. তন্ময় মন্ডল, ডা. ডালটন সানা, ডা. আবির সরকার, ডা. ইমরান হোসেন, ডা. মাম্পী মন্ডল ও ডা. তমালিকা খাতুন। বিভিন্ন বিভাগে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এতে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় গতি সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


‎নবাগত চিকিৎসক ডা. মোহসিনা সাকিব বলেন, আমি এই এলাকারই সন্তান। জন্মভুমি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা করতে পারবো ভেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই।


‎কয়রার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফোকাস এইডের সভাপতি রাসেল আহাম্মেদ বলেন, ডাঃ সংকট থাকায় জেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত এই উপকূলীয় জনপদের মানুষ বিভিন্ন সময় জরুরি রোগী নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে যেতে গিয়ে অনেক সময় জীবনঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের মাধ্যমে এখন স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত ও সময়োপযোগী চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হবে, তেমনি দুর্ভোগ ও অনেকাংশে কমবে। একজন সমাজকর্মী হিসেবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কয়রার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার আলো দেখতে পাবে এবং এই সেবার মান ও পরিধি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।


‎উল্লেখ্য যে, উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনগোষ্ঠীসহ প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবার ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে এখানে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছিল। কম সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের ফলে দীর্ঘদিনের সেবার ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ হবে এবং উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজে লাভ করবেন বলে আশাবাদী।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com