• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩
সর্বশেষ :
কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না : ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ শ্যামনগরের জহিরনগর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ খলিশাখালীর চরে সুপেয় পানির সংকট, ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবি সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে জেলা জাতীয় পার্টির শোক দেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত, বাস আটক অবৈধ নেটপাটা উচ্ছেদ ও নদী খালের প্রবাহ ফেরাতে ডুমুরিয়ায় তৎপরতা দেবহাটার ভাতশালা গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে সচেতনতা সভা ও গাছের চারা বিতরণ উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে দায়িত্ব হারালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন উপলক্ষে শ্যামনগরে র‍্যালি ও দোয় অনুষ্ঠিত নগরঘাটায় ৭ লাখ টাকার ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত

উন্নয়নের মানচিত্রে যেন এক ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ পাইকগাছার ঢ্যামসাখালী সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক

ইমদাদুল হক, পাইকগাছা, খুলনা / ১৩২ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

“আমার গ্রাম—আমার শহর” রূপকল্পে যখন দেশের প্রতিটি জনপদের চেহারা বদলে যাচ্ছে, তখন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ঢ্যামসাখালী গ্রামটি যেন এক ভিন্ন বাস্তবতার গল্প বলছে। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রার মাঝেও গ্রামের প্রধান সড়কটি সংস্কারের অভাবে আজ পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে। ফলে জনবসতিপূর্ণ এই এলাকা যেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এক ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপে’ রূপ নিয়েছে।

 

ভোগান্তির শেষ নেই, দেখার যেন কেউ নেই
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢ্যামসাখালী গ্রামের একমাত্র প্রধান সড়কটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা এলেই হাঁটুসমান কাদা আর জলাবদ্ধতায় রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ভাঙা ইটের খোয়া ও ধুলাবালির দাপটে দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ মানুষ। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন অনিশ্চয়তায় ভরা।

 

থমকে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কোনো যানবাহন সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে চায় না। ফলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না।

অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে গিয়ে ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এমনকি জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হয় চরম সংকট—অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, ভ্যান বা খাটিয়াই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, তখন তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যেন অদৃশ্যই রয়ে গেছে প্রশাসনের কাছে।

তাদের প্রশ্ন—
“আমরাও তো এই দেশের নাগরিক। তাহলে আমাদের এই দুর্ভোগ কি কারও চোখে পড়ে না? উন্নয়নের এই জোয়ারে আমরা কেন পিছিয়ে থাকব?”

দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি
অবহেলিত এই জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এখনই প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগ।

এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি—অবিলম্বে ঢ্যামসাখালী ৪নং ওয়ার্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায় হাজারো মানুষ।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com