সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘূর্ণিঝড় ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে এক অসহায় বিধবা নারীর বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর কষ্ট করে গড়ে তোলা ছোট্ট মাটির ঘরটিই ছিল তার শেষ আশ্রয়। ঝড়ের আঘাতে সেটিও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত বুটচারের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ মাটির ঘরে বসবাস করছিলেন। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছিল তার জীবন। এরই মধ্যে সম্প্রতি আঘাত হানা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও দমকা হাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়ে তার বসতঘর। উড়ে যায় ঘরের টিন, ধসে পড়ে দেয়াল। ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের তীব্রতা বাড়তেই হঠাৎ করে ঘরটি ভেঙে পড়ে। এসময় প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই দিন-রাত কাটছে তার।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “অসহায় এই নারী খুব কষ্ট করে জীবনযাপন করেন। ঝড়ে তার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে গেছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসন ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে অসহায় ওই নারী আবারও নিরাপদ আশ্রয় ফিরে পান।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়া, বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে বিধবা নারীর ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় মানবিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
https://www.kaabait.com