• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১১
সর্বশেষ :
ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার শ্যামনগরে দুস্থ অসহায় ও বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ নগরঘাটায় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইবাদুল ইসলামের মতবিনিময় সভা সংঘবদ্ধ ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জাতিকে বিভ্রান্ত করছে: ড. মনিরুজ্জামান দেবহাটায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ শ্যামনগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত, প্রশাসন, বিএনপি ও জামায়াতের পৃথক কর্মসূচি কলারোয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৮৫ বোতল ESKUF সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশাশুনিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত মালচিং পেপারে তালায় অমৌসুমী তরমুজ চাষে সাফল্য, ২১ বিঘায় ২৮ কৃষকের স্বপ্ন

শ্যামনগরে ম*রা কাঁকড়ার দুর্গন্ধে অ*তিষ্ঠ এলাকাবাসী, জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

এস এম মিজানুর রহমান, শ্যামনগর প্রতিনিধি / ১০৯ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দাঁতনাখালি নদীভাঙন চরে দীর্ঘদিন ধরে মরা কাঁকড়া ফেলে রাখার কারণে তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ না করা হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি মহামারির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এ অবস্থায় বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাঁতনাখালি গ্রামের নদীভাঙন এলাকায় কয়েকটি কাঁকড়া হ্যাচারির মালিক ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত মরা কাঁকড়া ফেলে স্তুপ তৈরি করছেন। ফলে আশপাশের এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা খালেকুল গাজী জানান, হ্যাচারির মালিকরা নদীভাঙন এলাকায় মরা কাঁকড়া ফেলায় ব্যাপক দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। পচে যাওয়া কাঁকড়ায় অসংখ্য পোকামাকড় জন্ম নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ দিয়ে চলাচলের সময় নাকে কাপড় না দিয়ে থাকা যায় না। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে বসবাস ও খাবার গ্রহণ করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে কিছু হ্যাচারি মালিক উল্টো তাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

 

আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, নদীতে যেকোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ হলেও কিছু হ্যাচারি মালিক প্রকাশ্যে মরা কাঁকড়া ফেলছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি শাহিন আলম বলেন, হ্যাচারির মরা কাঁকড়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হয়। কিন্তু তা না করে নদীর পাড়ে ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনস্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

এ বিষয়ে দাঁতনাখালি এলাকার হ্যাচারি মালিক জুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার হ্যাচারির কোনো মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে ফেলা হয় না। বরং এ ধরনের কাজ বন্ধে আমি একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও দিয়েছিলাম, যা দুর্বৃত্তরা ছিঁড়ে ফেলেছে। মূলত ছোট ছোট কিছু হ্যাচারি ব্যবসায়ী তাদের ঘেরের মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে ফেলে থাকে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দ্রুত মরা কাঁকড়ার স্তুপ অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে এলাকাবাসীও দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com