• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭
সর্বশেষ :
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও জিম্মি জেলে উদ্ধার নগরঘাটায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর ম*র্মা*ন্তিক মৃ*ত্যু ধুলিহরে গাজা ও ইয়াবাসহ আজহারুল ইসলাম জনতার হাতে আটক দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চোরাই ইজিবাইকের সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ২ সেতু আছে সড়ক নেই, মই বেয়ে ওঠে ৪ গ্রামের মানুষ কালেরডাঙায় সরকারি রাস্তার উপর থেকে গাছ কর্তন পাইকগাছায় বৈরী আবহাওয়া ও ৩ দিনের বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত; বেকায়দায় নিম্ন আয়ের মানুষ দেশের ১৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সময় জানালেন তথ্য উপদেষ্টা পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও জিম্মি জেলে উদ্ধার

এস এম মিজানুর রহমান, শ্যামনগর প্রতিনিধি / ৪৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা এক জিম্মি জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

 

তিনি জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

 

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্র-গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জুলাই বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

 

আত্মসমর্পণের সময় তারা কোস্ট গার্ডের কাছে ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি জমা দেন। একই সময় তাদের হেফাজত থেকে এক জিম্মি জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

 

আত্মসমর্পণকারী তিন ডাকাত হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তারা দীর্ঘদিন ধরে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পুনর্বাসন, জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ জব্দের আইনগত কার্যক্রম এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান, তারা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন। তবে যারা আত্মসমর্পণ না করে দস্যুবৃত্তি চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com