সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মালচিং পেপার ব্যবহার করে অমৌসুমী তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টার স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট (অ্যাগ্রিকালচার) [SP-D (Agriculture)]-এর সহযোগিতায় উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া, ভায়ড়া ও সুকদেবপুর গ্রামে প্রায় ২১ বিঘা জমিতে ২৮ জন কৃষক ইয়েলো ড্রাগন ও কার্নিয়া জাতের অমৌসুমী তরমুজের চাষ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি এলাকায় অমৌসুমী তরমুজ চাষের একটি বড় ক্লাস্টার। চলতি মৌসুমে এসব জমি থেকে প্রায় ৪২ হাজার কেজি তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৯ লাখ টাকা।
কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অনুকূল ফলন হলে প্রতি বিঘা থেকে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি সম্ভব হয়। ফলে এই চাষে লাভের সম্ভাবনা থাকায় এলাকায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী মৌসুমে আরও অনেক কৃষক এ চাষে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, উৎপাদিত তরমুজ ফল ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা কেজি দরে কিনে ট্রাকযোগে খুলনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান। এছাড়া তরমুজ বিক্রির মৌসুমে তালা-আঠারোমাইল মহাসড়কের পাশে অনেক কৃষক সরাসরি তরমুজ বিক্রি করেন। পথচারী ও যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে সেখান থেকেই তাজা তরমুজ কিনে নিয়ে যান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অমৌসুমী তরমুজ সংগ্রহ শেষ হলে একই জমিতে নতুন করে চাষ না দিয়ে মালচিং পেপারের ওপরই লাউ, শসাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করা হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে, জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং কৃষকদের আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
https://www.kaabait.com