• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:৪০
সর্বশেষ :
নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত নগরঘাটায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শ্যামনগরে কা*লবৈশাখী ঝড়ে গাছ পড়ে শিশুর ম*র্মা*ন্তি*ক মৃ*ত্যু ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত পবিত্র ঈদুল আজহা আজ পবিত্র ঈদুল আযহায় সখিপুরবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মঈন উদ্দীন ময়না তালায় ভ*য়া*বহ সড়ক দু*র্ঘট*না, প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর শ্যামকুড় ইউনিয়নবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম আন্তর্জাতিক স্পাইন সম্মেলনে বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান যুগীপোতায় ধান ও বিচলীর গাদায় আগুন দিয়ে দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ  শ্যামনগর পাংসের খাল পুনঃখনন কাজে বাধা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন

উৎসবে আমতলায় নতুন বছর বরণ: ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর গার্লস স্কুলে প্রাণের মেলা

জিএম আমিনুল হক / ৭২ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

ভোরের সূর্যের আবিরমাখা আলোয় যখন প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে উঠেছে, ঠিক তখনই সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি.বি) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আমতলায় বেজে ওঠে চিরচেনা সেই সুর— ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’। পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসে প্রাণের এক বর্ণিল মেলা।

 

১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন মেতে ওঠেন উৎসবের আমেজে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় বৈশাখের বন্দনা। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ গানের তালে তালে নেচে ওঠে কিশোরী শিক্ষার্থীরা।

 

লোকজ সংস্কৃতির শেকড়কে তুলে ধরতে আয়োজনে ছিল পুঁথিপাঠ, জারিগান, পল্লীগীতি ও ভাটিয়ালির সুর। দেশাত্মবোধক গান ও কবিতার পঙ্‌ক্তিতে ফুটে ওঠে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন ও প্রত্যয়।

 

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। মাটির কলস ও কুলোর ওপর রঙিন আলপনা, গ্রামীণ হাটের আদলে সাজানো ‘হালখাতা’ এবং হারিয়ে যাওয়া ‘বায়স্কোপ’ দর্শকদের ফিরিয়ে নেয় শৈশবের স্মৃতিময় দিনে। আমতলায় পান্তা উৎসবেও অংশ নেন সবাই, উপভোগ করেন বাঙালিয়ানার স্বাদ। পাশাপাশি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পুরো এলাকাকে রাঙিয়ে তোলে উৎসবের রঙে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মকে আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এমন আয়োজন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের মুগ্ধ করেছে।”

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিত কুমার মন্ডল, সাবেক অভিভাবক সদস্য রবীন্দ্রনাথ কর্মকার, মিয়ারাজ হোসেন, বিডিএফ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরশাদ আলী, সমাজসেবক জাহাঙ্গীর কবির, গ্রাম ডাক্তার জিয়াউর রহমান, সাংবাদিক জি এম আমিনুল হক ও মেহেদী হাসান শিমুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থী আয়ুশী মল্লিক ও ঝিলিক সরকারের সুরেলা গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। হালখাতা মহরত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তাহিরা আক্তার মিম, সাবরিন সুলতানা, মারিয়া আক্তার ও জান্নাতুল মাওয়া। শিক্ষক মৃনাল কুমার বিশ্বাসের সাবলীল সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল।

 

বিকেলের পড়ন্ত রোদে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও সবার মনে রয়ে যায় নতুন বছরের প্রত্যাশা— এই আনন্দ আর নবজাগরণের সুর যেন ছড়িয়ে পড়ে সারা বছর জুড়ে।


এই বিভাগের আরো খবর

https://www.kaabait.com